শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ডলারের শক্তিতে বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন

ডলারের শক্তিতে বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন

বিশ্ববাজারে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে ওঠার পর সোমবার সোনার দাম কমেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূল্যবান এই ধাতুর দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ টাকায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৭৬ ডলার ৮৬ সেন্টে নেমে আসে। এর আগে দিনের লেনদেনে সোনার দাম গত ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত সোনার ফিউচার মূল্যও শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০০ ডলার ৯০ সেন্টে দাঁড়ায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের দাম সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের কাছাকাছি থাকায় সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। আরও পড়ুন,মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে স্বর্ণে সতর্ক বিনিয়োগকারীরাঅ্যাকটিভট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিকার্ডো ইভানজেলিস্তার মতে, মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে। এতে ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বাড়লে সোনার দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে সোনার দাম কিছুটা সমর্থন পেতে পারে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ বলে মনে করছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা। ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন ৮৫ শতাংশ। এদিকে সোমবার বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। প্রতি আউন্স রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৬০ ডলার ৬২ সেন্টে এবং প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৮৪ ডলার ৭১ সেন্টে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪৯ ডলার ২০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.২১ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল—আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ২১৩ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে। এর আগে, গত ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ১৫৮ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার। আরও পড়ুন,২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশওআর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হিসাব অনুযায়ী, তিন দিনের ব্যবধানে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে ৫৪ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলার। এখানে গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গ্রস রিজার্ভ হলো দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব করা হয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করে। নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায়সহ প্রযোজ্য সমন্বয় বাদ দিয়ে প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব নির্ধারণ করা হয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বৈদেশিক আর্থিক চাপ মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.২১ বিলিয়ন ডলার

ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা, বেড়েছে বেশির ভাগ মুদ্রার দর

দেশের মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক মাস ধরেই বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে ওঠানামা চলছে। এর মধ্যে সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে বেশির ভাগ বিদেশি মুদ্রার দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা। ডলারের পাশাপাশি ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, চীনা ইউয়ান, অস্ট্রেলীয় ডলার ও সিঙ্গাপুরি ডলারের দামও বেড়েছে। তবে ভারতীয় রুপি ও জাপানি ইয়েনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন মুদ্রার বিনিময় হারে।আরও পড়ুন,জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা করল বিইআরসি তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত বিনিময় হার এবং খোলাবাজারের দামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত খোলাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হারের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা হয়। ফলে বিদেশে ভ্রমণ, আমদানি-রপ্তানি কিংবা আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রকৃত বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বৈদেশিক মুদ্রার দামের এই ওঠানামা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা কেনার খরচ বিনিময় হারের পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়তে বা কমতে পারে। একইভাবে বিদেশে অর্থ পাঠানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ব্যয়ও প্রভাবিত হতে পারে। অর্থনীতির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডলারসহ প্রধান বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার কোন দিকে যাচ্ছে, সেদিকে নজর রাখছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে মুদ্রার প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয়মূল্য ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিনিময় হার জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা, বেড়েছে বেশির ভাগ মুদ্রার দর