রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি নিয়ে বিতর্ক

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি নিয়ে বিতর্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা ও সমালোচনা।এক পক্ষ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জিন্নাহকে উপমহাদেশের মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে তুলে ধরছে। অন্য পক্ষ মনে করিয়ে দিচ্ছে তাঁর ১৯৪৮ সালের ঢাকা সফরের কথা। সে সময় তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁর সেই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।পরবর্তীতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সালাম বরকত রফিক জব্বারসহ অনেকে জীবন উৎসর্গ করেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায় বাংলা।জিন্নাহ ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে ব্যারিস্টার হন এবং পরে ভারতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি মুসলিম লীগের নেতৃত্ব দেন এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।আড়ও পড়ুন,মাগুরায় খাদ্য গুদামের সংস্কারকাজ বন্ধ কারিগরি মতামতের অপেক্ষা১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেল হন তিনি।তবে দেশভাগের রাজনীতি ও জিন্নাহর ভূমিকা নিয়েও ইতিহাসবিদদের মধ্যে নানা বিশ্লেষণ রয়েছে। কেউ দেশভাগে তাঁর নেতৃত্বকে প্রধান হিসেবে দেখেন। আবার কেউ কংগ্রেসের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ নীতি এবং মুসলিম লীগের কৌশলসহ বিভিন্ন কারণকে দেশভাগের সম্মিলিত প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখেছেন।ডাকসু সংগ্রহশালা সংস্কারের পর সেখানে জিন্নাহর তিনটি ছবি রাখা হয়েছে বলে জানা যায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ছাত্র ইউনিয়ন ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন বলছে ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে জিন্নাহর ছবি সংগ্রহশালায় প্রদর্শন করা হয়েছে।এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।ফলে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিহাসের উপস্থাপন ও রাজনৈতিক বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।