শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
জয়পুরহাটে ল্যাপটপ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপি নেতার অভিযোগ

জয়পুরহাটে ল্যাপটপ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপি নেতার অভিযোগ

জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। একই সঙ্গে নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগও করেছেন তিনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে ফয়সাল আলিম অভিযোগ করেন, ল্যাপটপ বিতরণে ভাগাভাগি হয়েছে এবং গত ছয় মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, সার ডিলারশিপ বণ্টনের ক্ষেত্রেও দলের নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা সুযোগ পাননি। বরং কারও শাশুড়ি ও কারও শ্যালকের নামে ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে কেউ তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়মের নতুন অভিযোগ তুলেছেন। তারিক হোসেন খান নামের একজন স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বা প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য দেননি তিনি। অন্যদিকে, বেলাল হোসেন ফয়সাল আলিমের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আরও পড়ুন,শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানএ ধরনের পোস্ট দলের মধ্যে বিতর্ক ও কোন্দল বাড়াতে পারে। জিল্লুর রহমানও তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে দাবি করেন, এতে রাজনৈতিকভাবে জামায়াত লাভবান হতে পারে। তবে এসব মন্তব্য ও অভিযোগের পক্ষেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ফয়সাল আলিম বলেন, তিনি দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না। তাই এসব বিষয়ে সত্য প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। জয়পুরহাট জেলা পরিষদ থেকে সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। তবে ল্যাপটপ বিতরণ, প্রকল্পের কথিত পারসেন্টেজ এবং সার ডিলারশিপ বণ্টন নিয়ে তোলা অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিস্তারিত তথ্য দেননি ফয়সাল আলিম। এদিকে, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন ফয়সাল আলিমের ফেসবুক পোস্টের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, পোস্টটি দেখেছেন, তবে সেটি পড়তে তাঁর রুচিতে বাধছিল। সব মিলিয়ে জয়পুরহাটে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ বণ্টন নিয়ে ফয়সাল আলিমের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

বিএনপি নেতাদের স্বজনদের সারের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ এনসিপি নেতার

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ও সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তাঁর অভিযোগ, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যরা সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন সারোয়ার তুষার। পোস্টে তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘সারেও ফ্যামিলি কার্ড! দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প!’ নিজের বক্তব্যের সমর্থনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর দাবি, ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেনের ছেলে মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদ সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সারোয়ার তুষারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাবরুক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও পড়ুন,দেশে হত্যা-ধর্ষণ-ছিনতাই রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি মামুনুল হকেরএ ছাড়া ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রধানের ছেলে তানভির রাফসান ডিমলা সদর ইউনিয়নের সারের ডিলার হয়েছেন বলে দাবি করেন সারোয়ার তুষার। তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়, তানভির রাফসান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সারোয়ার তুষার আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সন্তান, স্ত্রী, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী, ভাগ্নে ও ছোট ভাইয়েরা সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার বদলে আর্থিক লেনদেন প্রভাব ফেলেছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। নিজের পোস্টে একটি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ প্রসঙ্গে ‘সবই টাকার খেলা’ মন্তব্য করেন। তবে সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে সারোয়ার তুষারের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিএনপি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

বিএনপি নেতাদের স্বজনদের সারের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ এনসিপি নেতার