শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
উচ্চ দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এশিয়া

উচ্চ দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি পরিবহন বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক গ্যাসের বাজারে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এশিয়ার বাজারে এলএনজির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।বিশ্বের এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর বড় একটি অংশ আসত কাতার থেকে। সংঘাতের কারণে এই সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় এশিয়ার এলএনজির প্রধান মূল্যসূচক জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।বছরের শুরুতে জেকেএমে এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট বা এমএমবিটিইউ ১০ ডলারের নিচে ছিল। মার্চে তা ২২ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে কিছুটা কমলেও আবার বাড়তে শুরু করে এবং গত সপ্তাহে ২৫ ডলারের ওপরে উঠে বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।দাম বাড়ায় স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এলএনজি রফতানিকারক দেশগুলো বেশি আয় করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির এলএনজি রফতানি প্রায় সর্বোচ্চ সক্ষমতার পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশটির এলএনজি রফতানি ২৩ শতাংশ বেড়েছে।তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি এলএনজি খাতের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবর্তে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।ভারতে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন সময়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫ শতাংশ কমেছে। থাইল্যান্ড ১০ লাখ পরিবারকে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে সহায়তার পরিকল্পনা করেছে। এতে পাঁচ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।ভিয়েতনামের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভিনগ্রুপ প্রায় ৬৮০ কোটি ডলারের একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।আড়ও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের পথে চীনের দুই জায়ান্ট পান্ডাপাকিস্তানও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে এগোচ্ছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় ২০৩৫ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৯০ শতাংশ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য জানিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের ব্যয় কমার পাশাপাশি বড় আকারের ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির দাম কমে যাওয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন অনেক দেশের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টারের বিস্তারের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। তবে গ্যাস টারবাইনের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাধা তৈরি করছে।আন্তর্জাতিক গ্যাস ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির আশা করলেও হরমুজ সংকট এশিয়ার জ্বালানি পরিকল্পনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উচ্চমূল্য, সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং তুলনামূলক সস্তা নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ভবিষ্যতে এলএনজির চাহিদা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

বিশ্ববাজারে কমেছে সোনার দাম

বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন হয়েছে। তেলের দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও সোনার দামে চাপ তৈরি করেছে।রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৬১ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। এ সময় ১৭ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে লেনদেন হচ্ছিল সোনা। ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দামও ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইনের মতে, ইরান যুদ্ধের দ্রুত ও চূড়ান্ত সমাধানের বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। ফলে তেলের দাম এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব সোনার বাজারেও পড়তে পারে এবং দাম আরও কমার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড বর্তমানে প্রায় দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। সোনা কোনো সুদ দেয় না। ফলে বন্ডের ইয়িল্ড বেড়ে গেলে সোনায় বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় বাড়ে। এতে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সোনার পরিবর্তে সুদযুক্ত সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন।আড়ও পড়ুন,হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা নিতে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলাএদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৭৪৮ দশমিক ০৩ ডলার। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৬১ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।দেশের বাজারে রুপার দামও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপা ৪৪০ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪২৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৩৬৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রুপা বিক্রি হচ্ছে ২৭৫ টাকায়।

বিশ্ববাজারে কমেছে সোনার দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবার যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২৩ পয়সা বাড়িয়ে ৩ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২০ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৭২ পয়সা করা হয়েছে।বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর বৈঠক শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভাড়া বৃদ্ধির এ তথ্য জানান।মন্ত্রী বলেন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নৌযান মালিকরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।এছাড়া লঞ্চের সর্বনিম্ন ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। আগে সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ৩২ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন ভাড়া বৃদ্ধি কাম্য নয়। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই সর্বনিম্ন পর্যায়ে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।আড়ও পড়ুন,সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের সমস্যা কমবে কাদের গনিতিনি আরও বলেন তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির নামে নৈরাজ্য কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দেওয়া হবে না। এর আগে মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানান মালিকরা। এ জন্য একজন যাত্রীর যাতায়াতে প্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেন তারা।এদিকে একই দিন বাস ও মিনিবাসের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। বুধবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রতি কিলোমিটারে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ানোর কথা জানায়।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি

আটা ময়দা মুরগি ডিম ও মাছে বাড়তি দাম

রাজধানীর খুচরা বাজারে আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি ডিম ও বিভিন্ন ধরনের মাছ। তবে এসব পণ্যের তুলনায় সবজির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়েছে।তবে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে আরও বেশি। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকায়। এক মাস আগে যা ছিল ৪৫ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। এক মাস আগে এর দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।মোড়কজাত ময়দার দামও বেড়েছে। দুই কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এক মাস আগে এক কেজি মোড়কজাত ময়দা পাওয়া যেত ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়।ব্যবসায়ীরা বলছেন পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে আটা ময়দার দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।এদিকে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। প্রায় দেড় মাস আগে দাম ছিল প্রায় ২০ টাকা কম।আড়ও পড়ুন,তিতাসের নতুন কূপে বাড়ছে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ ফার্মের বাদামি ডিমের এক ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। সাদা ডিম পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১০ টাকা কমে।বিক্রেতাদের দাবি বন্যা অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমে অনেক খামারে ডিম ও মুরগির উৎপাদন কমেছে। ফলে সরবরাহ কম থাকায় দামও কমছে না।মাছের বাজারেও একই চিত্র। রুই বিক্রি হচ্ছে কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা এবং কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকা। পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।তবে স্বস্তি রয়েছে সবজির বাজারে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অধিকাংশ সবজির দাম আগের অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

আটা ময়দা মুরগি ডিম ও মাছে বাড়তি দাম

নিম্নস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম বেড়ে ৬৫ টাকা

দেশে নিম্নস্তরের বা কম দামি সিগারেটের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর। বৃহস্পতিবার এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ দাম বৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কমপক্ষে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই দাম ছিল ৬২ টাকা। অর্থাৎ নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকায় দাম বেড়েছে ৩ টাকা।তবে সিগারেটের অন্যান্য স্তরের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মধ্যম স্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের ২১০ টাকা বা তদূর্ধ্ব বহাল রয়েছে।আড়ও পড়ুন,৮৫ ডেসিবেলের হর্নে বিপাকে মোটরসাইকেল খাতএর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছিল। ওই বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়।একই সঙ্গে মধ্যম স্তরের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য আরও ৩ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হলো।

নিম্নস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম বেড়ে ৬৫ টাকা

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আবারও লাফিয়ে বাড়তে পারে তেলের দাম

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে জ্বালানির দাম ও বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা। তবে যুদ্ধ শুরুর সময় যে ধরনের ভয়াবহ তেলসংকটের আশঙ্কা করা হয়েছিল এখনো তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।বিশ্লেষকদের মতে মূলত তিন কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজার এখনো সচল রয়েছে। বিকল্প সরবরাহপথে তেল পরিবহন বিভিন্ন দেশের মজুত থেকে সরবরাহ এবং বৈশ্বিক তেলের চাহিদা কমে যাওয়া—এই তিন ব্যবস্থাই এখন বাজারকে সামলে রাখছে।হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প পথে তেল পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৌদি আরব পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল এমন বন্দরে পাঠাচ্ছে যেগুলো ইরানের নাগালের বাইরে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক পাহারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।তবে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে এসব বিকল্প পথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ব্রাজিল গায়ানা ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ উৎপাদন বাড়িয়েছে। এতে বাজারে বাড়তি তেল এসেছে। একই সময়ে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদাও কমেছে।আড়ও পড়ুন,টানা তিন দফা কমার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম ভ্রমণ কমে যাওয়া গণপরিবহন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়া এবং বিভিন্ন অঞ্চলের শোধনাগারে সক্ষমতার ঘাটতিসহ নানা কারণে দৈনিক তেলের চাহিদা কমেছে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল।তবে এই ভারসাম্যকে খুব বেশি স্থায়ী মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের মজুত কমে যেতে পারে। বিকল্প পাইপলাইন ও পরিবহন ব্যবস্থাও একপর্যায়ে সক্ষমতার সীমায় পৌঁছাতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার কুশিংয়ে তেলের মজুত গত জুলাইয়ে পরিচালনাগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। পরে কিছুটা বাড়লেও দীর্ঘ যুদ্ধ হলে মজুত নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।চীনের কাছেও বড় পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এসব মজুতও একপর্যায়ে কমে আসবে। তখন সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।এদিকে তেল পরিবহন সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তেলবাহী জাহাজ পাহারা দেওয়া ব্যয়বহুল এবং সামরিক সক্ষমতার ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৭ থেকে ৮৯ ডলারে উঠতে পারে। আর যুদ্ধ শেষ হলে দাম নেমে আসতে পারে প্রায় ৬৪ ডলারে।অর্থাৎ এখন পর্যন্ত বিকল্প পথ মজুত ও কম চাহিদার কারণে বিশ্ব তেলের বাজার বড় ধাক্কা সামলে নিয়েছে। কিন্তু এই স্থিতিশীলতা কত দিন থাকবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে ততই বাড়বে মজুত ফুরিয়ে যাওয়া বিকল্প পথের ওপর চাপ এবং হরমুজ ঘিরে নতুন হামলার ঝুঁকি। ফলে সামনে আবারও বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আবারও লাফিয়ে বাড়তে পারে তেলের দাম