রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আবারও লাফিয়ে বাড়তে পারে তেলের দাম

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আবারও লাফিয়ে বাড়তে পারে তেলের দাম

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে জ্বালানির দাম ও বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা। তবে যুদ্ধ শুরুর সময় যে ধরনের ভয়াবহ তেলসংকটের আশঙ্কা করা হয়েছিল এখনো তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।বিশ্লেষকদের মতে মূলত তিন কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজার এখনো সচল রয়েছে। বিকল্প সরবরাহপথে তেল পরিবহন বিভিন্ন দেশের মজুত থেকে সরবরাহ এবং বৈশ্বিক তেলের চাহিদা কমে যাওয়া—এই তিন ব্যবস্থাই এখন বাজারকে সামলে রাখছে।হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প পথে তেল পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৌদি আরব পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল এমন বন্দরে পাঠাচ্ছে যেগুলো ইরানের নাগালের বাইরে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক পাহারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।তবে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে এসব বিকল্প পথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ব্রাজিল গায়ানা ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ উৎপাদন বাড়িয়েছে। এতে বাজারে বাড়তি তেল এসেছে। একই সময়ে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদাও কমেছে।আড়ও পড়ুন,টানা তিন দফা কমার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম ভ্রমণ কমে যাওয়া গণপরিবহন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়া এবং বিভিন্ন অঞ্চলের শোধনাগারে সক্ষমতার ঘাটতিসহ নানা কারণে দৈনিক তেলের চাহিদা কমেছে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল।তবে এই ভারসাম্যকে খুব বেশি স্থায়ী মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের মজুত কমে যেতে পারে। বিকল্প পাইপলাইন ও পরিবহন ব্যবস্থাও একপর্যায়ে সক্ষমতার সীমায় পৌঁছাতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার কুশিংয়ে তেলের মজুত গত জুলাইয়ে পরিচালনাগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। পরে কিছুটা বাড়লেও দীর্ঘ যুদ্ধ হলে মজুত নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।চীনের কাছেও বড় পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এসব মজুতও একপর্যায়ে কমে আসবে। তখন সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।এদিকে তেল পরিবহন সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তেলবাহী জাহাজ পাহারা দেওয়া ব্যয়বহুল এবং সামরিক সক্ষমতার ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৭ থেকে ৮৯ ডলারে উঠতে পারে। আর যুদ্ধ শেষ হলে দাম নেমে আসতে পারে প্রায় ৬৪ ডলারে।অর্থাৎ এখন পর্যন্ত বিকল্প পথ মজুত ও কম চাহিদার কারণে বিশ্ব তেলের বাজার বড় ধাক্কা সামলে নিয়েছে। কিন্তু এই স্থিতিশীলতা কত দিন থাকবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে ততই বাড়বে মজুত ফুরিয়ে যাওয়া বিকল্প পথের ওপর চাপ এবং হরমুজ ঘিরে নতুন হামলার ঝুঁকি। ফলে সামনে আবারও বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।