শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরা

১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরা

আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ঋণ হিসেবে এই অর্থ দেবে। আর ঋণের গ্যারান্টি দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কয়েক ধাপে এই অর্থ ছাড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর বড় অংশ দিয়ে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ করা হতে পারে। সোমবার, ১২ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি অর্থ না দিয়ে ঋণের জামিনদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অতীতের অনিয়ম ও আর্থিক দুরবস্থার কারণে সংকটে পড়া ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন এবং ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আরও পড়ুন,ঢাকায় আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনে নতুন সংযোজন, শেল্‌টেকের দুই প্রকল্পে থাকছে আধুনিক সুবিধাওই বৈঠকে ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এদিকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। গত ১১ অক্টোবর থেকে টাকা উত্তোলনের আবেদন নেওয়া হচ্ছে, যা চলবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীরা টাকা তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন জানান, ১৫ অক্টোবর থেকে সব শাখা ও এটিএম চালু করা হবে। শাখাগুলোতে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের চাহিদা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ২০ অক্টোবর থেকে আবেদন না করলেও সব গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অনেক আমানতকারী আপাতত টাকা তুলতে আগ্রহী নন। ফলে উত্তোলনের আবেদন তুলনামূলক কম এসেছে। নিজস্ব তহবিল থেকে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এখন ১০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য তারল্য সহায়তা এবং আমানত ফেরতের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক সংকট মোকাবিলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সহায়তার অর্থ ছাড় ও গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের অগ্রগতি থাকবে আমানতকারীদের নজরে।

তারল্য সহায়তার পরও সংকট কাটছে না ন্যাশনাল ব্যাংকের

সংকটের বৃত্ত থেকে যেন বেরই হতে পারছে না ন্যাশনাল ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা পাওয়ার পরও শাখায় শাখায় নগদ অর্থের সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা। অনেক ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকার বেশি অর্থ তুলতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এটিএম বুথেও নিয়মিত টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ ৪২ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারায় ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা।আর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। ফলে মূলধন ও তারল্য—দুই দিক থেকেই তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকটি।নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ সামলাতে সম্প্রতি ৯০ দিনের জন্য ১১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ডিমান্ড প্রমিসরি নোটের বিপরীতে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।তাদের মতে খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করা পরিচালনা পর্ষদ শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনা জরুরি।গ্রাহকদের অভিযোগও গুরুতর। আড়ও পড়ুন,পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগের লক্ষ্যচেক নগদায়নে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে। আবার এটিএম থেকেও প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে না পারায় বেতনভোগীসহ সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন খরচ চালাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে বড় অঙ্কের টাকা একসঙ্গে উত্তোলনের ক্ষেত্রে তারল্য ব্যবস্থাপনার কারণে কিছুটা রেশনিং করতে হচ্ছে। তবে ৫ হাজার ১০ হাজার কিংবা ১ লাখ টাকার মতো তুলনামূলক ছোট অঙ্কের টাকা উত্তোলনে বড় ধরনের সমস্যা নেই বলেও দাবি করেছে তারা।ন্যাশনাল ব্যাংকের সংকট অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম বেনামি ঋণ এবং কর্পোরেট সুশাসনের দুর্বলতার অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে। গত পাঁচ বছরে ভারপ্রাপ্তসহ ছয়জন এমডি পদত্যাগ করেছেন অথবা বিভিন্ন কারণে দায়িত্ব ছেড়েছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও বলেছেন শুধু তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভর করে কোনো ব্যাংক টিকে থাকতে পারে না। ন্যাশনাল ব্যাংককে ঘুরে দাঁড়াতে হলে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকের ভেতরে কাঠামোগত সংস্কার আনতে হবে।সব মিলিয়ে বিপুল খেলাপি ঋণ প্রভিশন ঘাটতি ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট—সবকিছু মিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ন্যাশনাল ব্যাংক। এখন প্রশ্ন সাময়িক তারল্য সহায়তায় সংকট সামলানো যাবে নাকি প্রয়োজন হবে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার।

তারল্য সহায়তার পরও সংকট কাটছে না ন্যাশনাল ব্যাংকের