সংকটের বৃত্ত থেকে যেন বেরই হতে পারছে না ন্যাশনাল ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা পাওয়ার পরও শাখায় শাখায় নগদ অর্থের সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা। অনেক ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকার বেশি অর্থ তুলতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এটিএম বুথেও নিয়মিত টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ ৪২ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারায় ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা।আর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। ফলে মূলধন ও তারল্য—দুই দিক থেকেই তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকটি।নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ সামলাতে সম্প্রতি ৯০ দিনের জন্য ১১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ডিমান্ড প্রমিসরি নোটের বিপরীতে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।তাদের মতে খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করা পরিচালনা পর্ষদ শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনা জরুরি।গ্রাহকদের অভিযোগও গুরুতর। আড়ও পড়ুন,পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগের লক্ষ্যচেক নগদায়নে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে। আবার এটিএম থেকেও প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে না পারায় বেতনভোগীসহ সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন খরচ চালাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে বড় অঙ্কের টাকা একসঙ্গে উত্তোলনের ক্ষেত্রে তারল্য ব্যবস্থাপনার কারণে কিছুটা রেশনিং করতে হচ্ছে। তবে ৫ হাজার ১০ হাজার কিংবা ১ লাখ টাকার মতো তুলনামূলক ছোট অঙ্কের টাকা উত্তোলনে বড় ধরনের সমস্যা নেই বলেও দাবি করেছে তারা।ন্যাশনাল ব্যাংকের সংকট অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম বেনামি ঋণ এবং কর্পোরেট সুশাসনের দুর্বলতার অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে। গত পাঁচ বছরে ভারপ্রাপ্তসহ ছয়জন এমডি পদত্যাগ করেছেন অথবা বিভিন্ন কারণে দায়িত্ব ছেড়েছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও বলেছেন শুধু তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভর করে কোনো ব্যাংক টিকে থাকতে পারে না। ন্যাশনাল ব্যাংককে ঘুরে দাঁড়াতে হলে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকের ভেতরে কাঠামোগত সংস্কার আনতে হবে।সব মিলিয়ে বিপুল খেলাপি ঋণ প্রভিশন ঘাটতি ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট—সবকিছু মিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ন্যাশনাল ব্যাংক। এখন প্রশ্ন সাময়িক তারল্য সহায়তায় সংকট সামলানো যাবে নাকি প্রয়োজন হবে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।