মক্কা-মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় ঢাকায় সেমিনার
পবিত্র মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারের বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তার প্রতি যেকোনো হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় মুসলিম বিশ্বের সংহতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। গত শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে ‘হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদায় মুসলিম উম্মাহর করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ। সেমিনারে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ইসলামি স্কলার ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মানযুর এ ইলাহী, প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া, প্রফেসর ড. মুসলেহুদ্দীন, অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ফারুক, ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানীসহ অন্যরা। বক্তারা বলেন, মক্কা ও মদিনা শুধু সৌদি আরবের নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ঈমান, ভালোবাসা ও ধর্মীয় অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দু। আরও পড়ুন,ইশরাকের পিস্তল উঁচানোর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দাতাই পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সচেতনতা, সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠীর হামলার ঘটনাগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, পবিত্র স্থান, বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তৈলশোধনাগারে হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সেমিনারে মুসলিম বিশ্বের বিভেদ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, আবেগনির্ভর প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে হবে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বাংলাদেশ সরকারকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সংস্থা, মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন সেমিনারের বক্তারা।