রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
সর্বজনীন পেনশনে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

সর্বজনীন পেনশনে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নমিনি ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। বর্তমানে এ সুবিধার বয়সসীমা ৭৫ বছর।বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, পেনশনার নিজে আজীবন পেনশন পাবেন। তার মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে এই সুবিধা ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছিল।এ ছাড়া সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠানে পেনশন ব্যবস্থা নেই সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা পরে নির্ধারণ করা হবে।আড়ও পড়ুন,আসিফ মাহমুদের সম্পদের খোঁজে দুদকবিদেশগামী কর্মীদেরও সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে জানানো এবং নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ। এর কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি নির্ধারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং স্থানীয় পরামর্শকেরা কাজ করছেন। অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আলাদা বিধিমালা প্রণয়নের পর এই স্কিম চালু করা হবে।তবে পেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি অ্যাকচুয়ারিয়াল পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী সময়ে আবার পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হতে পারে।সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। ঋণ দেওয়া হলে তহবিলের কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে অ্যাকচুয়ারিয়াল নির্দেশনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোন মডেলে এটি চালু করা হবে এবং এতে তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।অন্যদিকে পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে অক্ষম হলে বিশেষ বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সেটিও অনুমোদন পায়নি।সর্বজনীন পেনশনে নতুন নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। আগে একজনকে নিবন্ধনের জন্য ১৫ টাকা দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।এ ছাড়া জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে পেনশন সুবিধার বয়সসীমা বাড়ানো শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালু সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধনের মতো একাধিক উদ্যোগের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।