‘আবার এল যে সন্ধ্যা’র স্রষ্টা হ্যাপি আখান্দ, যাঁর শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি
বাংলা সংগীতের এক ক্ষণজন্মা প্রতিভা হ্যাপি আখান্দ। মাত্র ২৭ বছর বয়সে থেমে যায় তাঁর জীবন, কিন্তু থেমে যায়নি তাঁর গান। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রোতাদের কণ্ঠে ও হৃদয়ে বেঁচে আছেন তিনি। আজ ১২ অক্টোবর, এই শিল্পীর জন্মদিন। বেঁচে থাকলে ৬৪ পেরিয়ে ৬৫ বছরে পা দিতেন বাংলা গানের এই সুরস্রষ্টা। ১৯৬০ সালের ১২ অক্টোবর পুরান ঢাকার পাতলা খান লেনের আখান্দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন হ্যাপি আখান্দ। তাঁর কেতাবি নাম জিয়া হাসান আখান্দ। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ আর নিজস্ব সুরের বৈশিষ্ট্য তাঁকে অল্প বয়সেই আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। ১৯৭৫ সালে ‘আবার এল যে সন্ধ্যা’ গানটির মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।আরও পড়ুন,মহালয়ার সেই বিতর্কিত অধ্যায়, কেন উত্তমকুমারের কণ্ঠে মন ভরেনি বাঙালির সময় পেরিয়ে গেলেও গানটির জনপ্রিয়তা কমেনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান, পারিবারিক আয়োজন, বিয়ে কিংবা বনভোজন বাঙালির নানা আনন্দঘন মুহূর্তে আজও শোনা যায় এই গান। নতুন প্রজন্মের অনেক শ্রোতার কাছেও গানটি সমান পরিচিত। হ্যাপি আখান্দের সংগীতপ্রতিভা নিয়ে সহশিল্পীদের স্মৃতিচারণেও উঠে এসেছে নানা গল্প। প্রয়াত ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু মনে করতেন, হ্যাপি আখান্দের চলে যাওয়া বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের জন্য ছিল বড় ধাক্কা। তাঁর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সংগীতশিল্পী শাফিন আহমেদও হ্যাপির সৃজনশীলতার স্মৃতি তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আড্ডার মধ্যেও হ্যাপি হাতের কাছে বাদ্যযন্ত্র না পেলে ম্যাচের কাঠি দিয়েই সুর তোলার চেষ্টা করতেন। সংগীত যেন তাঁর প্রতিদিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।