শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রবৃদ্ধি

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রবৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে এশিয়ার অন্যতম বড় অর্থনীতি ভারতকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের গড় মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২,৮৮৬ ডলার, যা ভারতের ক্ষেত্রে ২,৭৪৯ ডলার। সামগ্রিক অর্থনীতির আয়তনে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় আট গুণ বড় হলেও, বিশাল জনসংখ্যার ব্যবধানের কারণে মাথাপিছু আয়ের এই সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বিশেষ করে গত দুই দশকে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রসার, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের বিপুল অংশগ্রহণ বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। তবে মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকা মানেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ স্থানীয় বাজারের কেনাকাটা এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার বিচারে ভারত এখনো বেশ খানিকটা এগিয়ে।আরও পড়ুন,ঋণের প্রতিশ্রুতি হ্রাস পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রায় ৮.৭ শতাংশের মতো উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যেখানে ভারত চলতি বছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করছে, সেখানে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সালের দিকে ভারত হয়তো মাথাপিছু আয়ে পুনরায় বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দেবে। দুই দেশের অর্থনীতির কাঠামোতেও বড় পার্থক্য বিদ্যমান। বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত এককভাবে রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে ভারত প্রযুক্তি, বড় সেবা খাত ও নিজস্ব বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের কারণে বেশ বৈচিত্র্যময়। অধিকন্তু, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক নৌপথে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া দুই দেশের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সর্বাপরি, মাথাপিছু আয়ের এই হিসাব সমাজের প্রকৃত আয়বৈষম্য বা ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকাশ করে না। তাই কেবল পরিসংখ্যানের অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈষম্য কমানোই এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেশের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক সভা চলাকালে মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ওই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াতে পারে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে। সেই হিসাবে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।আরও পড়ুন,দেশের বাজারে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমল সোনার দাম, কমেছে রুপাওআইএমএফের পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার বর্তমান পর্যায়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবৃদ্ধি কমে গেলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির অক্টোবর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে বলা হয়েছে, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির সমস্যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ