স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত রাখা হয়নি।তিনি বলেন, আগামীতে যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন তারা যেন এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হন।মীর শাহে আলম স্পষ্ট করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন নেই। একইভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদেও শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার আইনে লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তির অযোগ্যতার বিষয়টি রয়েছে। আড়ও পড়ুন,স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয় প্রতিটি নাগরিকের অধিকার: জুবাইদা রহমানঅন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একই সময়ে আর্থিকভাবে লাভজনক একাধিক পদে থাকার বিষয়ে বিধান রয়েছে।এখন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না তা নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ ধরনের শর্ত রাখা হয়নি।তার মতে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও একজন মানুষ স্বশিক্ষিত হতে পারেন। একজন সমাজসেবক বা জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের যোগ্যতা ও সক্ষমতাই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।