শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
জিয়া ও খালেদা জিয়ার বই সংগ্রহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

জিয়া ও খালেদা জিয়ার বই সংগ্রহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজের গ্রন্থাগারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা তিনটি বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় অধীনস্থ সব দপ্তরপ্রধানকে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য লিখিত তাগিদ পাঠিয়েছে। বই তিনটি হলো প্রয়াত গবেষক ও সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর লেখা ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’ এবং ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’। অন্য বইটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আরও পড়ুন,ফ্লাইট বাতিলে ভোগান্তিতে ১৭ হাজার যাত্রীতিনটি বইয়ের মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭০০ টাকা। নথি অনুযায়ী, বইগুলোর প্রকাশক জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার পক্ষে জহির দীপ্তি গত ২৩ আগস্ট স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন। আবেদনে বইগুলোকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করে মেডিকেল কলেজের গ্রন্থাগারে সংরক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়। ওই আবেদনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ‘জোর সুপারিশ করা হলো’ লিখে স্বাক্ষর ও দাপ্তরিক সিলমোহর দেন। এরপর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ অধীনস্থ দপ্তরপ্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়। প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবী, নার্স, শিক্ষার্থী এবং হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সচেতন নাগরিকদের জন্য বইগুলো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর আগে গত ৩ জুন দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই তিনটি বই রাখার নির্দেশ দিয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে ব্যাপক আলোচনার পর ৬ জুলাই সেই নির্দেশনা বাতিল করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই সিদ্ধান্ত বাতিলের প্রায় তিন মাস পর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গ্রন্থাগার নিয়ে নতুন নির্দেশনা এলো। উল্লেখ্য, অতীতেও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে লেখা বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে শিশু একাডেমি প্রকাশিত ২৭টি বই কেনার নির্দেশ দিয়েছিল। ২০১৪ সালেও তাঁকে নিয়ে লেখা তিনটি বই কেনার নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল।

বইয়ের স্টলে গল্প রহস্য আর বিজ্ঞানে মেতে শিক্ষার্থীরা

গা ছমছমে ভূতের গল্পের ভক্ত চট্টগ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইসা। তাই প্রথমা প্রকাশনের বই উৎসবে একনজরেই তার পছন্দ হয়ে যায় রকিব হাসানের ‘হাতকাটা ভূত’। বইটি কেনার আগে সহপাঠী বান্ধবীকেও ডেকে এনে দেখিয়েছে সে। এরপর পছন্দের বইটি প্যাকেটবন্দী করে নিয়ে গেছে নিজের কাছে।মাইসা জানায়, রকিব হাসান তার প্রিয় গল্পকার। ‘হাতকাটা ভূত’ বইটি একজন পিয়ানো শিক্ষককে ঘিরে লেখা হয়েছে বলে আগেই জেনেছে সে। ওই শিক্ষকের মিউজিক স্কুলে যারা বাজনা শিখতে যায় তারা আর ফিরে আসে না এমন রহস্য নিয়েই গল্প। বাকিটা বাড়িতে গিয়ে পড়বে বলে জানায় মাইসা। সোমবার সকালে চট্টগ্রামের বালুছড়ায় লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথমা আয়োজিত বই উৎসবে কথা হয় মাইসার সঙ্গে। তখন বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে টিফিনের বিরতি চলছিল। এ সময় ক্যানটিনের বদলে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ছুটে যায় বইয়ের স্টলের দিকে। কেউ খুঁজছিল কিশোর উপন্যাস ও রহস্যের বই, কেউ কমিকস আবার কেউ পছন্দের লেখকের গল্পের বই। বই কেনার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ভিন্ন রকমের আগ্রহ। কেউ মলাট দেখেই দ্রুত পছন্দের বই কিনছিল। আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল কোন বইটি কেনা হবে। অনেক শিক্ষার্থী হাতে থাকা টাকা গুনে বইয়ের দাম মিলিয়ে নিচ্ছিল এবং বই কেনার পর কত টাকা অবশিষ্ট থাকবে সেটিও হিসাব করছিল। মেলার একটি স্টলে বিজ্ঞান, গণিত, গল্প, রহস্য ও কিশোর উপন্যাসসহ বিভিন্ন ধরনের বই সাজিয়ে রাখা হয়। পাশাপাশি ছিল কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তার সাময়িকী। আরও পড়ুন,জিপিএ-৫ উৎসবে স্বপ্ন নিয়ে হাজির ১০ হাজার শিক্ষার্থীপঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিদ ও আবিরকে দেখা যায় গণিতের বই নিয়ে আলোচনা করতে। কঠিন গণিতের বিষয়গুলো সহজভাবে বোঝার জন্য তারা উপযোগী বই খুঁজছিল। গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও গণিতের বইয়ের প্রতিই তাদের আগ্রহ বেশি। এরই মধ্যে তারা বিজ্ঞানচিন্তার চলতি সংখ্যার দুটি কপিও কিনে নেয়। ছোটদের টিফিনের বিরতি শেষ হওয়ার পর শুরু হয় বড় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিরতি। তখন আবারও বইয়ের স্টলে ভিড় বাড়ে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপন্যাস গল্প থ্রিলার ও রহস্যের বইয়ের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখা যায়। কেউ কেউ প্রিয় লেখকের নাম বলেও জানতে চাইছিলেন তাঁর কোনো বই স্টলে আছে কি না। পরে শিক্ষার্থীদের ছুটির সময় বিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেন অভিভাবকেরাও। সন্তানের পছন্দের বই খুঁজে দিতে তারা স্টলে ভিড় করেন। কেউ সন্তানের হাতে পছন্দের বই তুলে দেন, আবার কেউ বই বাছাইয়ে উৎসাহ দেন। অনেক অভিভাবক সন্তানের জন্য বই কেনার পাশাপাশি নিজেদের পছন্দের বইও বেছে নেন। লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সঙ্গে তাদের পরিচিত করতেই প্রথমা প্রকাশনের সঙ্গে যৌথভাবে এ বই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প উপন্যাস বিজ্ঞান ও রহস্যের বই পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

 বইয়ের স্টলে গল্প রহস্য আর বিজ্ঞানে মেতে শিক্ষার্থীরা

হাফেজদের দেওয়া নেক্সাস বই ফেরত নিল ধর্ম মন্ত্রণালয়

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।রোববার দুপুরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো ফেরত নেন।সম্প্রতি ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজীজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশি হাফেজদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তাদের কয়েকটি করে বই উপহার দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ ইউভাল নোয়াহ হারারির লেখা ‘নেক্সাস’-এর বাংলা অনুবাদ।বিজয়ীদের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই বইগুলো তুলে দেন। পরে বই দেওয়ার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনও বইটি উপহার দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানায়।এরপর রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, রোববার দুপুরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী তার দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইটি ফেরত নেন। এ সময় হাফেজদের পাশাপাশি তাদের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে।তবে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর, সহায়তা এবং অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সরকারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই নিয়ে বিতর্কের পর তা ফেরত নিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।রোববার দুপুরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইটি ফেরত নেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর দ্রুত এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজীজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশি হাফেজদের সম্প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।আড়ও পড়ুন,ইন্টারনেট ব্যবহারে অগ্রগতি ঘরে সংযোগে কিছুটা পতন অনুষ্ঠানে তাদের কয়েকটি করে বই উপহার দেওয়া হয়েছিল। সেই বইয়ের মধ্যে ইউভাল নোয়াহ হারারির লেখা ‘নেক্সাস’-এর বাংলা অনুবাদও ছিল।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ী হাফেজদের হাতে বইগুলো তুলে দেন। পরে অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর ‘নেক্সাস’ বই উপহার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনও এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানায়।রোববার সন্ধ্যায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হাফেজদের দেওয়া বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে।পোস্টে বলা হয়, রোববার দুপুরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার তার দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইটি ফেরত নেন। এ সময় হাফেজদের পাশাপাশি তাদের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর, সহায়তা ও অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সরকারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

হাফেজদের দেওয়া নেক্সাস বই ফেরত নিল ধর্ম মন্ত্রণালয়