শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
সাত মাসে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি: হাসনাত

সাত মাসে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি: হাসনাত

জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএনপি গত সাত মাসে ১৭ বার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার ১৮ অক্টোবর রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আমার বাংলাদেশ পার্টি এবি পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এ অভিযোগ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি প্রতিদিনই একেকটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। অথচ দলটি বারবার জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিচ্ছে। তার দাবি, এরই মধ্যে সনদের ১৭টি ধারা লঙ্ঘন করেছে বিএনপি। সাত মাসে জনগণের সঙ্গে ১৭ বার প্রতারণা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এনসিপির এই নেতা বলেন, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে ৩০০ সংসদ সদস্যকে ১৮০ দিনের জন্য সংস্কারের ক্ষমতা দিয়েছিল। এ কারণে বারবার একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানানো হয়েছিল। আরও পড়ুন,জয়পুরহাটে ল্যাপটপ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপি নেতার অভিযোগকিন্তু গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গণভোটের ফলাফলের একটি অংশ মেনে নিলেও বাকি অংশ মানেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ছিল। তার অভিযোগ, বিএনপিও এখন একইভাবে নিজেদের পক্ষে থাকা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, আর বিপক্ষে গেলে তা মানছে না। গণভোটের ফলাফল পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, এর ফলে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপি একদিকে সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নিচ্ছে। তবে বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে দলটির বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এনসিপি নেতার এ বক্তব্য সামনে এলো।

জয়পুরহাটে ল্যাপটপ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপি নেতার অভিযোগ

জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। একই সঙ্গে নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগও করেছেন তিনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে ফয়সাল আলিম অভিযোগ করেন, ল্যাপটপ বিতরণে ভাগাভাগি হয়েছে এবং গত ছয় মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, সার ডিলারশিপ বণ্টনের ক্ষেত্রেও দলের নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা সুযোগ পাননি। বরং কারও শাশুড়ি ও কারও শ্যালকের নামে ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে কেউ তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়মের নতুন অভিযোগ তুলেছেন। তারিক হোসেন খান নামের একজন স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বা প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য দেননি তিনি। অন্যদিকে, বেলাল হোসেন ফয়সাল আলিমের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আরও পড়ুন,শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানএ ধরনের পোস্ট দলের মধ্যে বিতর্ক ও কোন্দল বাড়াতে পারে। জিল্লুর রহমানও তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে দাবি করেন, এতে রাজনৈতিকভাবে জামায়াত লাভবান হতে পারে। তবে এসব মন্তব্য ও অভিযোগের পক্ষেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ফয়সাল আলিম বলেন, তিনি দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না। তাই এসব বিষয়ে সত্য প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। জয়পুরহাট জেলা পরিষদ থেকে সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। তবে ল্যাপটপ বিতরণ, প্রকল্পের কথিত পারসেন্টেজ এবং সার ডিলারশিপ বণ্টন নিয়ে তোলা অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিস্তারিত তথ্য দেননি ফয়সাল আলিম। এদিকে, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন ফয়সাল আলিমের ফেসবুক পোস্টের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, পোস্টটি দেখেছেন, তবে সেটি পড়তে তাঁর রুচিতে বাধছিল। সব মিলিয়ে জয়পুরহাটে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ বণ্টন নিয়ে ফয়সাল আলিমের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

জয়পুরহাটে ল্যাপটপ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপি নেতার অভিযোগ

বিএনপি নেতাদের স্বজনদের সারের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ এনসিপি নেতার

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ও সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তাঁর অভিযোগ, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যরা সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন সারোয়ার তুষার। পোস্টে তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘সারেও ফ্যামিলি কার্ড! দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প!’ নিজের বক্তব্যের সমর্থনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর দাবি, ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেনের ছেলে মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদ সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সারোয়ার তুষারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাবরুক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও পড়ুন,দেশে হত্যা-ধর্ষণ-ছিনতাই রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি মামুনুল হকেরএ ছাড়া ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রধানের ছেলে তানভির রাফসান ডিমলা সদর ইউনিয়নের সারের ডিলার হয়েছেন বলে দাবি করেন সারোয়ার তুষার। তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়, তানভির রাফসান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সারোয়ার তুষার আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সন্তান, স্ত্রী, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী, ভাগ্নে ও ছোট ভাইয়েরা সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার বদলে আর্থিক লেনদেন প্রভাব ফেলেছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। নিজের পোস্টে একটি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ প্রসঙ্গে ‘সবই টাকার খেলা’ মন্তব্য করেন। তবে সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে সারোয়ার তুষারের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিএনপি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

বিএনপি নেতাদের স্বজনদের সারের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ এনসিপি নেতার

রাউজানে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাহারায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের দাফন

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে চট্টগ্রামের রাউজানে। পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তাঁর শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। জানাজা ও দাফনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে রাউজানের গহিরায় রোটনের নিজ বাড়ির উঠানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গহিরার বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল। জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রোটনের মরদেহবাহী গাড়ি গহিরার বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় বিএনপির নেতারা মরদেহ গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে গভীর রাত থেকেই গহিরা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জানাজা ও দাফনের সময়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় ছিলেন। আরও পড়ুন,দেশে হত্যা-ধর্ষণ-ছিনতাই রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি মামুনুল হকেরদাফনের কাজ তদারককারী প্রতিবেশী ও গহিরা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মানুষ হিসেবে ভালো ছিলেন। তিনি দেশের বড় মাপের রাজনীতিবিদ ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন জুয়েল। রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানাজায় অংশ নেন বলে জানান তিনি।  উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক বিবেচনায় তাঁরা সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন। রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজান সাহিল বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় রোটনের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহাদাত মির্জা জানান, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁরা ঘরছাড়া ছিলেন এবং তাঁদের নেতা-কর্মীদের দাফন নিয়েও সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। তবে মানবিক বিবেচনায় রোটনের শেষযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা সহযোগিতা করেছেন।

রাউজানে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাহারায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের দাফন

অপরাধ করলে দলীয় পরিচয়েও ছাড় নেই বলছে বিএনপি

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের আগে বলেছিলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি নিজ দলের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আসার পর তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। দ্রুত পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।আড়ও পড়ুন,তিন কারা কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী চাইল দুদক বিএনপির নেতারা বলছেন, দলের নেতাকর্মী হলেও অপরাধের অভিযোগে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যায়ে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপরই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করবে। দলীয় এমপির বিরুদ্ধে পদত্যাগের নির্দেশের এই ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই সিদ্ধান্তের পর দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে বিএনপি কী ধরনের সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেয়।

অপরাধ করলে দলীয় পরিচয়েও ছাড় নেই বলছে বিএনপি

বিএনপির ‘চক্রান্ত প্রতিহত’ করার আহ্বান

সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও দলটির নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। বুধবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বলেন, এনসিপিকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে ‘লাঠিপেটা’ করা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির বক্তব্যের জবাব দেওয়ার জন্য বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলই যথেষ্ট।সমাবেশে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ককটেল বিস্ফোরণ ও রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির নেতারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে জড়িয়ে শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, এসব বক্তব্য বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করছে। এনসিপির নেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের পর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় তাঁদের নিতে হবে।সমাবেশে বক্তারা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টার অভিযোগ তুলে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আফছর খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেন।

বিএনপির ‘চক্রান্ত প্রতিহত’ করার আহ্বান

ফার্মগেটে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

রাজধানীর ফার্মগেটে পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি।মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিলটি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়।কৃষিবিদদের সংগঠন এ্যাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান এবং সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লব অংশ নেন।এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবিরসহ দলটির নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী কয়েক শ কৃষিবিদও এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।মিছিল থেকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।আড়ও পড়ুন,অপপ্রচারে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা যাবে না বললেন রিজভী বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। এর প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।মিছিলটি ফার্মগেটের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে অগ্রসর হয়ে পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়।এদিকে কর্মসূচিকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কৃষিবিদদের উপস্থিতিও ছিল। আয়োজকরা তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।রাজধানীতে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ফার্মগেটের এই বিক্ষোভ মিছিলও দলটির নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো।

ফার্মগেটে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বাড়াতে ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তৈরি সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করতে দেশব্যাপী প্রচার কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।আড়ও পড়ুন,জামিন পেয়েও মুক্তি মিলল না মিষ্টি সুভাষ নতুন মামলায় গ্রেপ্তাররিজভী জানান উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে মশারি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।এ ছাড়া ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্কাউট গার্ল গাইড এবং শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে যুক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।রেডিও ও টেলিভিশনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ও বিএনপির নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানানো হবে। একই সঙ্গে মানুষ কীভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়েও প্রচার চালানো হবে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন স্কুল মাদরাসা কলেজ ও হাটবাজারে আবর্জনা রাখার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কমিটিগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে দলীয়ভাবে এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দলের বিভিন্ন শূন্য পদে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের কাউন্সিল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।এদিকে আগামী ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হতে আগ্রহীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং ১৬ সেপ্টেম্বর তা জমা দিতে হবে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি