শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
আবরার হত্যার দ্রুত বিচার দাবি বাবার

আবরার হত্যার দ্রুত বিচার দাবি বাবার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষকে আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদেরবিরুদ্ধে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের দমন-পীড়নের সময়ে একের পর এক আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। তবে আবরার হত্যাকাণ্ডের পর দেশের মানুষের তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে প্রতিবাদের শক্তি তখনো মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে আবরারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যই তাঁর হত্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।আরও পড়ুন,দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না: রিজভীরিজভীর দাবি, আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করে। আলোচনা সভায় আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন চুক্তি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখাই ছিল তাঁর ছেলের অপরাধ। এ কারণে বুয়েটের হলে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের পর আবরারকে হত্যা করা হয়। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। সভায় বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে আদালতের রায়েও উঠে এসেছে। তাঁর ভাষ্য, আবরারসহ বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতার আত্মত্যাগ পরবর্তী সময়ে জুলাই আন্দোলনের পথ তৈরি করে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

হাদী হত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু

শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর আগে সেখানে অবস্থান নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা। পদযাত্রা শুরুর পর বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত এই পদযাত্রা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সংগঠনটির ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। কর্মসূচির প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে প্রায় ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তেঁতুলিয়ায় গিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে। পথে বিভিন্ন বাজারে সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করবেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।আরও পড়ুন,তুরস্কে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি শফিকুর রহমানতিনি অভিযোগ করেন, হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত, আওয়ামী লীগ ও র জড়িত। তবে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অবস্থান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও তারা এর বিরোধিতা করবেন। হাদী হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ কোনো হত্যাকাণ্ড হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে বিবেচনার দাবি জানান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং গণভোটের রায় কার্যকর ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির দাবি, ‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর মাধ্যমে এসব দাবির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় তারা। তবে দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি বা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।

হাদী হত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু