রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
আইএইএ মহাপরিচালকের সঙ্গে বিজ্ঞানমন্ত্রীর বৈঠক

আইএইএ মহাপরিচালকের সঙ্গে বিজ্ঞানমন্ত্রীর বৈঠক

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার আইএইএর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে আইএইএর সহযোগিতা কামনা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।বৈঠকে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।মন্ত্রী বলেন বাংলাদেশ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএর কারিগরি সহযোগিতা কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য কৃষি খাদ্য পানি ব্যবস্থাপনা শিল্প ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সুবিধা পেয়ে আসছে। ২০২৬ থেকে ২০৩২ মেয়াদের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ফ্রেমওয়ার্ক স্বাক্ষরের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন বিজ্ঞানমন্ত্রী। তিনি জানান ইউনিট-১ এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে অগ্রগতি অর্জন করেছে।তার মতে রূপপুরের বিদ্যুৎ দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে।বৈঠকে পারমাণবিক নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। আড়ও পড়ুন,আউশ চাষে বদলে যাচ্ছে রংপুরের কৃষির চিত্রপারমাণবিক বর্জ্য ও ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী।এ ছাড়া ক্যানসার চিকিৎসায় আইএইএর ‘রেইজেস অব হোপ’ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ২০২৫ সালে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন জাতীয় পর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়নে আইএইএর সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ। এর আওতায় সমন্বিত ওয়ান স্টপ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।ক্যানসার চিকিৎসায় সক্ষমতা বৃদ্ধি জ্ঞান বিনিময় এবং টেকসই চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইএইএর কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হয়। আগামী নভেম্বর অনুষ্ঠেয় আইএইএ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইমপ্যাক্ট রিভিউ মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা মূল্যায়নের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে।এ সময় তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফেলোশিপ শিক্ষা এবং যৌথ গবেষণার সুযোগ বাড়াতেও আইএইএর সহযোগিতা কামনা করেন বিজ্ঞানমন্ত্রী।বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন ভিয়েনায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং যুগ্মসচিব শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।