শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
এলপিজির নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ায় বিপাকে কোটি পরিবার

এলপিজির নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ায় বিপাকে কোটি পরিবার

রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও রাজধানীর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। ফলে প্রতিটি সিলিন্ডার কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৩৬৩ থেকে ৪৬৩ টাকা। গত সাড়ে সাত মাসে দফায় দফায় এলপিজির দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাইপলাইনের গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ না থাকায় দেশের এক কোটিরও বেশি পরিবার এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। ফলে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক পরিবার। সরকারি দর নির্ধারণ করা হলেও বাজারে তা কার্যকর না হওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, প্ল্যান্ট থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না। অন্যদিকে পাইকারি বিক্রেতাদের বক্তব্য, খুচরা বিক্রেতাদের কাছে আগের মজুত থাকায় তারা নতুন করে গ্যাস তুলছেন না। আরও পড়ুন,অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে ডিএমপির দুই কর্মকর্তার দায়িত্ব পরিবর্তনতবে বড় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুললে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানিয়েছেন, দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই। তাঁর দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীরা অনৈতিকভাবে গ্যাস মজুত করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছেন। কোনো অপারেটর নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে বাজারে বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ থাকায় সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা অন্তত দেড় লাখ টন। এর প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। বাজারের প্রায় ৬৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে চারটি বড় প্রতিষ্ঠান—ওমেরা, পেট্রোমেক্স, মেঘনা ও যমুনা। এ ছাড়া বিএম এনার্জি, ইউনাইটেড আইগ্যাস, ডেল্টা, জেএমআই ও প্রিমিয়ামসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই খাতে ব্যবসা করছে। বাজারের বড় অংশ অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রতিযোগিতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

৮৫ ডেসিবেলের হর্নে বিপাকে মোটরসাইকেল খাত

মোটরসাইকেলের হর্নের শব্দমাত্রায় নতুন নিয়ম। আর এই নিয়মেই জটিলতায় পড়েছে দেশের মোটরসাইকেল খাত। আমদানি নীতিমালায় নতুন শর্ত যুক্ত হওয়ায় মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের কয়েকটি চালান বন্দরে আটকে আছে বলে দাবি খাতসংশ্লিষ্টদের।শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ২৪ নভেম্বর ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করে সরকার।নতুন বিধিমালায় দুই বা তিন চাকার হালকা যানের হর্নের সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ ডেসিবেল। মাঝারি যানের জন্য ৯০ এবং ভারী যানের জন্য ১০০ ডেসিবেল।এরপর গত ২৪ আগস্ট জারি হওয়া ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের আমদানি নীতিতে নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ করে—এমন হর্নকে আমদানি-নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় রাখা হয়।এর পর থেকেই বন্দরে সমস্যায় পড়ছেন মোটরসাইকেল আমদানিকারকেরা।খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এসব চালান আটকে গেলে উৎপাদন ও সংযোজন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ আশেকুর রহমানের দাবি, বাংলাদেশে নির্ধারিত ৮৫ ডেসিবেলের সীমা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নতুন নিয়মের কারণে মোটরসাইকেল আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।আড়ও পড়ুন,গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটে ৫৫ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানার অর্ডার কমেছেএদিকে বাংলাদেশ মোটরসাইকেল এসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন শব্দমাত্রার বর্তমান সীমা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।সংগঠনটির পক্ষ থেকে পরিবেশমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমান মানমাত্রা বহাল থাকলে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানিতে আকস্মিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।পরিবেশ অধিদপ্তরের পরীক্ষার তথ্যেও দেখা গেছে, ২০২২ সালে ১৩টি মডেলের মোটরসাইকেলের হর্ন পরীক্ষা করে সাত মিটার দূরত্বে সর্বনিম্ন ৮৪ দশমিক ৮ এবং সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ২ ডেসিবেল শব্দমাত্রা পাওয়া যায়।তবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও রয়েছে গুরুত্ব।খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শব্দদূষণের বড় উৎস হাইড্রোলিক হর্ন। মোটরসাইকেলে এর ব্যবহার তুলনামূলক কম হলেও এ ধরনের হর্ন নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।ব্যবসায়ীরা বলছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য ঠিক রেখে বাংলাদেশের বাস্তবতা ও মোটরসাইকেল শিল্পের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য শব্দমাত্রা নির্ধারণ করা জরুরি।একই সঙ্গে নীতিমালা ঘন ঘন পরিবর্তন না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, এতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

৮৫ ডেসিবেলের হর্নে বিপাকে মোটরসাইকেল খাত