শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.২১ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.২১ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল—আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ২১৩ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে। এর আগে, গত ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ১৫৮ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার। আরও পড়ুন,২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশওআর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হিসাব অনুযায়ী, তিন দিনের ব্যবধানে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে ৫৪ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলার। এখানে গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গ্রস রিজার্ভ হলো দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব করা হয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করে। নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায়সহ প্রযোজ্য সমন্বয় বাদ দিয়ে প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব নির্ধারণ করা হয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বৈদেশিক আর্থিক চাপ মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগের লক্ষ্য

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ বা অ্যামচ্যাম একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সরকার প্রস্তুততিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। বিনিয়োগ প্রযুক্তি কর্মসংস্থান জ্ঞান ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি দেশের জাতীয় রাজস্বেও তাদের অবদান ২০ শতাংশের বেশি।বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সরকার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।তিনি বলেন, আড়ও পড়ুন,সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ছাড়াল সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার রেকর্ডকোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যা সরকারের কাছে উত্থাপন করা হলে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এর উদাহরণ হিসেবে কর্টেভা বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স-সংক্রান্ত জটিলতা এক মাসের মধ্যে সমাধানের কথা তুলে ধরেন তিনি।বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় দেশ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৌশলগত অবস্থান তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং প্রযুক্তি ডিজিটাল উদ্ভাবন স্বাস্থ্যসেবা উৎপাদন ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে শুধু সম্ভাবনা যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্যতা সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো নিশ্চিত করা প্রয়োজন।এ লক্ষ্যেই ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ ডিজিটালাইজেশন এবং বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগের লক্ষ্য