সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
বিশ্বের খেলনার বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বের খেলনার বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বের ১২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের খেলনার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। বিপরীতে, গত বছর চীন একাই রপ্তানি করেছে ৩ হাজার ৪৮২ কোটি ডলারের খেলনা। বিশাল এই বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো খুবই সীমিত। তবে গত অর্থবছরে দেশের খেলনা রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি। বিশ্বের ৪১টি দেশে বাংলাদেশের খেলনা রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের খেলনা গেছে ইতালিতে। খেলনার বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারিত হলেও বাংলাদেশ এখনো বড় অংশীদার হতে পারেনি। উদ্যোক্তাদের মতে, বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির জটিলতা, নীতিসহায়তার অভাব, পণ্যের মানোন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি এবং ঘন ঘন লোডশেডিং এ শিল্পের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে খেলনা রপ্তানিতে চীনের আধিপত্য দীর্ঘদিনের। গত বছর দেশটি রপ্তানি করেছে ৩ হাজার ৪৮২ কোটি ডলারের খেলনা। আরও পড়ুন,আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলারতালিকায় চীনের পর রয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও মেক্সিকো। সেই তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো অনেক পিছিয়ে। দেশের খেলনা রপ্তানিতে বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ৪ কোটি ২১ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি করেছে সনিক বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বিভিন্ন গাড়ির ক্ষুদ্র মডেল তৈরি করে। এ ছাড়া উইন চ্যাম্পিয়ন প্রায় ৭৫ লাখ ডলার এবং বিপি ম্যানুফ্যাকচারিং ৪৮ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে, জার্মান-বাংলাদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা কাপকেক এক্সপোর্টস এবং চীনা বিনিয়োগের মেইগো বাংলাদেশও এ খাতে রপ্তানি করছে। এদিকে, দেশীয় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের খেলনা আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারেও দেশীয় খেলনার চাহিদা পূরণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদের মতে, কাঁচামাল আমদানি সহজ করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের খেলনা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি খেলনাকে রপ্তানি আয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গড়ে তুলতে এখন প্রয়োজন কার্যকর নীতিসহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।