শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
এলপিজি ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি, সমাধান না হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

এলপিজি ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি, সমাধান না হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

এলপিজি ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি আদায়ে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এই দুই দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলিন্ডারপ্রতি কমিশন বৃদ্ধি, গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ এবং অযৌক্তিক জরিমানা প্রত্যাহার। সেলিম খান জানান, পাঁচ বছর আগে সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এ সময়ে পরিবহন ব্যয়, গুদামভাড়া, শ্রমিকের মজুরি, লাইসেন্স ফি এবং সিলিন্ডার ওঠানো-নামানোর খরচ বেড়েছে। এসব ব্যয় বিবেচনায় কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের সাত শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু কোম্পানি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্ধারিত সময়ের বাইরে নিজেদের ইচ্ছামতো এলপিজির দাম পরিবর্তন করে। তাই মাসে একাধিকবার দাম সমন্বয় করতে হলে বিইআরসির মাধ্যমে তা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।আরও পড়ুন,ঢাকায় আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনে নতুন সংযোজন, শেল্‌টেকের দুই প্রকল্পে থাকছে আধুনিক সুবিধাপাশাপাশি কোম্পানির চালানে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ এবং পরিবেশকের গুদামে সিলিন্ডার পৌঁছে না দিলে ন্যায্য পরিবহনভাড়া দেওয়ারও দাবি রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এলপিজি সরবরাহসংকট ও ঋণপত্র খোলার জটিলতার বিষয়টিও তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁদের দাবি, অনেক কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় সারা দেশে বিপুলসংখ্যক খালি সিলিন্ডার পড়ে রয়েছে। এসব সিলিন্ডারে পুনরায় গ্যাস ভরে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। এদিকে, গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—লোয়াবের দাবি, দেশে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এলপিজি বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক কাজে এলপিজি ব্যবহারকারীরা।

সারা দেশে কয়েক লাখ অব্যবহৃত সিলিন্ডার, বাজারে ফেরানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

কমিশন পুনর্নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হয়রানি বন্ধ এবং অব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার পুনরায় বাজারে ছাড়ার দাবিতে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশকেরা। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন—বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পর কোম্পানিগুলো যেন নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম পরিবর্তন করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে তা বিইআরসির মাধ্যমে করার দাবি জানান তাঁরা। এ ছাড়া বাজারে পড়ে থাকা হাজার হাজার অব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে বাজারে ছাড়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, অনেক কোম্পানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। আরও পড়ুন,দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.২১ বিলিয়ন ডলারআবার কিছু কোম্পানি এলপিজি আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খুলতে পারছে না। ফলে বিপুলসংখ্যক সিলিন্ডার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেলিম খান বলেন, বর্তমানে মাত্র ছয় থেকে সাতটি কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে। এতে সারা দেশে কয়েক লাখ গ্যাস সিলিন্ডার অব্যবহৃত পড়ে আছে। এসব সিলিন্ডারে সরকার কিংবা এলপিজি কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে গ্যাস ভরে ডিলারদের কাছে সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এতে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে এলপিজি কিনতে পারবেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক জরিমানা এবং হয়রানির অভিযোগও তোলেন তাঁরা। সেলিম খান জানান, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে বিইআরসির চেয়ারম্যান তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো কমিশন পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে চেয়ারম্যান তাঁকে জানিয়েছেন। এখন নজর থাকবে, নির্ধারিত দুই দিনের কর্মসূচির আগে ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান আসে কি না। অন্যথায় এলপিজি সরবরাহ ও বাজারে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।

সারা দেশে কয়েক লাখ অব্যবহৃত সিলিন্ডার, বাজারে ফেরানোর দাবি ব্যবসায়ীদের