শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
কূটনীতিকদের সম্মানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ

কূটনীতিকদের সম্মানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে ‘আ ডিপ্লোম্যাটিক ইভনিং-২০২৬’ শীর্ষক নৈশভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দলটির ইতিহাস, ভিশন, মিশন, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে দলের দৃষ্টিভঙ্গি কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ, ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি, সিঙ্গাপুর দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং এবং ইরাকের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ওয়িসাম হুসাইন আলী আল-ইথাওয়ি। এ ছাড়া মালদ্বীপের ডেপুটি হাইকমিশনার আলী শাহ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফার্স্ট কাউন্সেলর কামিলা পার্টিকা এবং মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা অ্যালিস কেনেডিসহ রাশিয়া, জাপান, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা ও ব্রুনেই দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক নৈতিক দর্শন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। মামুনুল হক বলেন, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নীতি ইসলামি মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কোনো জনগোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের প্রতি দলটির বিদ্বেষ নেই। আরও পড়ুন,এনসিপির পাঁচ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের কমিটিইসলামি দৃষ্টিকোণ ও মূল্যবোধকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে দলটি। পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্য বাণিজ্য ও মানবিক সংলাপের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। মামুনুল হক আরও বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো নির্দিষ্ট শক্তি বা বলয়ের পক্ষপাতী নয়। জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে দলটি বিশ্বাসী। সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় সনদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নারীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায়ও দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাধীন বিচার বিভাগ ও মুক্ত গণমাধ্যমকে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জবাবদিহিমূলক সরকারের অপরিহার্য পূর্বশর্ত বলেও উল্লেখ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের রায়ে সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার চায় খেলাফত মজলিস

গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।রোববার ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।লিখিত বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারসহ বিভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। তাঁর দাবি, পরবর্তী গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন।দলটির দাবি,আড়ও পড়ুন,‘সময় আসলে উত্তর নিজেরাই পেয়ে যাবেন’—সরকারকে নাসীরুদ্দীনের বার্তা গণভোটের রায় অনুযায়ী নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন সংস্কার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।এ ছাড়া সংবিধানের মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের দাবিও জানিয়েছে দলটি।খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের অভিযোগ, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। দলটির মতে, এতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।তাদের দাবি, সংবিধান সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি গঠন করে সরকার জনগণের ম্যান্ডেটের পরিবর্তে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। এ কারণেই বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস।দলটি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায়ের আলোকে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। 

গণভোটের রায়ে সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার চায় খেলাফত মজলিস