মহানবীর আদর্শে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক ভূমিকা সম্ভব
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:-এর শিক্ষা ও জীবনাদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মানবতার প্রকৃত মুক্তির পথ নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও তরুণ গবেষক মুফতি আহমাদ শরীফ বিন আসাদ। তিনি বলেছেন, মহানবী সা: ছিলেন মানবতার মুক্তিদূত। তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলমানদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে জানাতে হবে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর দুপুরে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা পাঠানটুলায় তামাদ্দুনিক ও সীরাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং সীরাতুন্নবী সা:-এর মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুফতি আহমাদ শরীফ বিন আসাদ বলেন, জ্ঞানার্জন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে মহানবী সা: যে শিক্ষার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, তা অনুসরণ করেই মুসলমানরা একসময় শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আরও পড়ুন,কমলনগরে যুবককে অপহরণ করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতাঁর জীবন ছিল জ্ঞান, শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবকল্যাণের অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, মহানবী সা: মানুষকে অজ্ঞতা ও অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোয় নিয়ে এসেছেন। তাঁর শিক্ষায় মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, অন্যায় ও অবিচারের পরিবর্তে সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও কল্যাণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তাই আদর্শ মানুষ এবং আলোকিত সমাজ গঠনে মহানবী সা:-এর জীবনাদর্শের চর্চা অপরিহার্য। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন অধ্যক্ষ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী বলেন, মুসলমানদের ইতিহাসে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। শিক্ষা কেবল সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং মানুষের চরিত্র, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপায়। মহানবী সা:-এর আদর্শে শিক্ষিত প্রজন্ম পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। জামেয়ার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মাওলানা ফখরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, অতিরিক্ত উপাধ্যক্ষ মাওলানা কমর উদ্দীন এবং অধ্যাপক মাওলানা আব্দুন নুর।