মাদক-জুয়াই অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন—ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলেছে। প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক আইনি কাঠামোর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল এবং বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে জ্ঞানভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্র্যাবের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে।অপরাধের মূল কারণ খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অপরাধ একটি বাহ্যিক উপসর্গ। তাই অপরাধীর শাস্তির পাশাপাশি কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করতে হবে। তাঁর মতে, মাদক ও জুয়া সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি।ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করা ক্রাইম রিপোর্টারদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের সিএসআর ফান্ডসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পেশাগত শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সনদ দেওয়ার বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।আড়ও পড়ুন,স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ১৭ সেপ্টেম্বরঅ্যাসিড অপরাধ দমনে কঠোর আইন, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও সামাজিক সচেতনতার সম্মিলিত সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একইভাবে মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে রাষ্ট্র, সমাজ ও গণমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।অনলাইন জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীইনি কাঠামো আধুনিকায়নের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরোনো আইন সংস্কার ও নতুন আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন।পরে কেক কেটে ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।