মহাকাশেও যুদ্ধের প্রস্তুতি, কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের
মহাকাশকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে পৃথিবীর কক্ষপথে বিশেষ ধরনের অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে সম্ভাব্য শত্রুভাবাপন্ন কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষা দিতে কক্ষপথে এই সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে অস্ত্রটির ধরন ও সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।ভয়েসওভার:মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতায় নতুন বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র।সোমবার ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা জানান।তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি বলেননি, অস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট সক্ষমতা কী এবং ঠিক কবে এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, মহাকাশে শত্রুভাবাপন্ন পক্ষের কর্মকাণ্ড থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষা এবং পরিবর্তনশীল সামরিক হুমকি মোকাবিলার জন্য এ ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন।ওয়াশিংটনের প্রধান উদ্বেগের জায়গায় রয়েছে চীন ও রাশিয়া।আড়ও পড়ুন,আলাস্কায় নৌকা উল্টে নিখোঁজের পর ১৫ বছরের কিশোর উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভবিষ্যৎ কোনো সংঘাতে মার্কিন সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও ন্যাভিগেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইটগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা তৈরি করছে দেশ দুটি।কারণ যুদ্ধের সময় এসব স্যাটেলাইটে হামলা কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর করে দেওয়া গেলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।তবে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তি পৃথিবীর কক্ষপথে গণবিধ্বংসী ও পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করেছে। তবে প্রচলিত সামরিক অস্ত্র ও স্যাটেলাইটবিধ্বংসী প্রযুক্তি নিয়ে বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের।২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্সও মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে।ফলে পৃথিবীর বাইরে মহাকাশকে ঘিরে সামরিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি সেই প্রতিযোগিতায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা।