শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
কোটি টাকার সেতু রক্ষা করা গেল না, বিচ্ছিন্ন দুই জেলার যোগাযোগ

কোটি টাকার সেতু রক্ষা করা গেল না, বিচ্ছিন্ন দুই জেলার যোগাযোগ

ফরিদপুরে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু। নির্মাণের মাত্র ছয় বছরের মাথায় সেতুটি নদীগর্ভে ধসে পড়ায় ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জের অন্তত দুই হাজার মানুষের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই জেলার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। সোমবার, ১২ অক্টোবর, ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে পদ্মার ভাঙনে সেতুটি ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সাত কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য ছিল ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ১২ ফুট। সেতুটি দিয়ে ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের আজমত আলী মণ্ডলের ডাঙ্গী, মোনতাজ মাদবরের ডাঙ্গী ও আদর্শ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করতেন। আরও পড়ুন,স্টিচিং ইন্টারপ্লাস্টের সহযোগিতায় ১৩৫ রোগীর অস্ত্রোপচারপাশাপাশি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, জয়পুর, নতুন হাট, গঙ্গাবর্দী, হরিহরদিয়া, পাটগ্রাম ও নটাখোলা গ্রামের বাসিন্দারাও সেতুটি ব্যবহার করতেন। এটি ধসে পড়ায় এসব এলাকার মানুষের চলাচলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান জানান, সেতুটির পূর্ব পাশের পাইলিংয়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এটি নদীতে ধসে পড়ে। সেতুটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বালুর বস্তা ফেলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা কাজে আসেনি। ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, সেতুটি রক্ষার জন্য ১৫০ মিটার এলাকায় বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু নদীভাঙন প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলায় সেতুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বর্ষা মৌসুমে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নেওয়াও কঠিন ছিল। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, গত কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় তীব্র ভাঙন চলছে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভাঙন দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বিনিয়োগ ও যোগাযোগ বাড়াতে চান মির্জা ফখরুল

পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বিনিয়োগ বিমান যোগাযোগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।রোববার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার। আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতিও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।রাষ্ট্রপতি বলেন পাকিস্তান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে। এ জন্য ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।বাংলাদেশে পাকিস্তানি তৈরি পোশাক বিশেষ করে নারীদের পোশাকের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানি তৈরি পোশাক কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন।হাইকমিশনার জানান পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে আগামী অক্টোবরে ঢাকায় বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে পাকিস্তানেও বাণিজ্য মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।এদিকে ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে পাকিস্তানের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথাও জানান হাইকমিশনার।ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন এই যোগাযোগ ব্যবসা-বাণিজ্য চিকিৎসা পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। আড়ও পড়ুন,জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন তারেক রহমানফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।বাংলাদেশি চা পাকিস্তানের বাজারে আরও বেশি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন হাইকমিশনার।অন্যদিকে সিরামিক পণ্য পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য এবং ওষুধসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন মানসম্মত পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি।এ ছাড়া দুই দেশের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং বিজ্ঞান প্রকৌশল প্রযুক্তি ও চিকিৎসায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারকে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বাণিজ্য শিক্ষা সংস্কৃতি প্রশিক্ষণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বহুমাত্রিক ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বিনিয়োগ ও যোগাযোগ বাড়াতে চান মির্জা ফখরুল