শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
সারা বছর ফল আমদানির শুল্ককাঠামো যৌক্তিক করার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

সারা বছর ফল আমদানির শুল্ককাঠামো যৌক্তিক করার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

শুধু রমজানকে কেন্দ্র করে নয়, সারা বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে মাল্টাসহ সব ধরনের ফল আমদানির শুল্ককাঠামো দ্রুত যুক্তিসংগত করার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এ সভার আয়োজন করে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সারা বছর পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে আগে সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়নি। আরও পড়ুন,গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারএখন সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। মৌসুমের বাইরেও যাতে পণ্যের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যায়, সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমদানি শুল্ককাঠামোয় যেসব পরিবর্তন আনা হবে, তা শুধু রমজানকে সামনে রেখে নয়, বরং সারা বছরের জন্য কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আসন্ন রমজানে পণ্যসংকটের আশঙ্কা নেই বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, রমজানের আগে পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। এ পর্যন্ত যে পরিমাণ ঋণপত্র বা এলসি এবং আমদানির অনুমতিপত্র খোলা হয়েছে, তাতে রমজানে পণ্যের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে বাজারদর স্থিতিশীল রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। কৃষি ও আবহাওয়ার পরিবর্তন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রিন ফার্মিংয়ের কারণে কৃষিতে পরিবর্তন আসছে। বাংলাদেশেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সিলেট অঞ্চলে তরমুজ চাষের কথা উল্লেখ করেন। তবে বর্ষাকাল সবজি উৎপাদনের প্রধান মৌসুম না হওয়ায় ওই সময়ে দাম সব সময় কম রাখা সম্ভব নাও হতে পারে বলে জানান তিনি।

ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের যৌক্তিক কারণ পেয়েছে জাতিসংঘ

ইরানে দুটি সামরিক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে বিশ্বাস করার মতো যৌক্তিক কারণ পেয়েছে জাতিসংঘের ইরানবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান মিশন। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও এনেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।তদন্ত মিশনটি ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং এর আগে ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পর্যালোচনা করেছে।প্রতিবেদনে দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারেহ তায়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে ওই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের বড় অংশই ছিল স্কুলশিক্ষার্থী। জাতিসংঘের মিশন বলছে হামলাটি নির্বিচার ছিল এবং এতে বেসামরিক মানুষ ও একটি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তদন্তকারীরা বলছেন হামলার আগে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করা হয়েছিল যাতে দাবি করা হয় একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডার ওই এলাকায় অবস্থান করছেন। আড়ও পড়ুন,মোদির জন্মদিনে পুতিনের বিশেষ বার্তা, একই গাড়িতে দুই নেতাকিন্তু হামলার আগে তথ্যটি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। স্কুলটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এমন কোনো প্রমাণও তদন্তকারীরা পাননি।লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়াকেন্দ্রে হামলার বিষয়েও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মিশন। তাদের মতে ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেসামরিক মানুষ হতাহত হন। তদন্তকারীরা এটিকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।অন্যদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তদন্ত মিশন। তাদের অনুসন্ধানে বেসামরিক মানুষের ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে এসেছে। এর মধ্যে বেআইনি হত্যাকাণ্ড নির্যাতন নির্বিচারে আটক জোরপূর্বক গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পেছনে বিদেশি সমর্থিত বিরোধী গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাকারীরা জড়িত ছিল।জাতিসংঘের তদন্ত মিশন জানিয়েছে বিক্ষোভে নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে তাদের ধারণা প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় বেশি হতে পারে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এর আগে দাবি করেছেন তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধের নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে। ইরানও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের যৌক্তিক কারণ পেয়েছে জাতিসংঘ