শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে টাকা আমদানি রপ্তানি নিষ্পত্তির সুযোগ

ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে টাকা আমদানি রপ্তানি নিষ্পত্তির সুযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংক নন-রেসিডেন্ট টাকা বা ভোস্ট্রো হিসাব ব্যবহার করে টাকায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক লেনদেন নিষ্পত্তির নতুন কাঠামো চালু করেছে। বুধবার নন-রেসিডেন্ট টাকা বা ভোস্ট্রো হিসাব পরিচালনার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডিলার বা এডি ব্যাংকের মাধ্যমে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নামে পরিচালিত ভোস্ট্রো হিসাব ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় এডি ব্যাংকগুলো অবাধে বিনিময়যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় পাওয়া রেমিট্যান্সের বিপরীতে বিদেশি ব্যাংকের নামে টাকা ভোস্ট্রো হিসাব খুলতে পারত। তবে নতুন কাঠামোয় প্রাথমিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা জমা না নিয়েও বাংলাদেশে আমদানির বিপরীতে প্রাপ্য অর্থের ভিত্তিতে বিদেশি ব্যাংকের নামে টাকা ভোস্ট্রো হিসাব খোলা ও পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই হিসাবে জমা হওয়া টাকা বাংলাদেশের রপ্তানি মূল্য পরিশোধসহ অন্যান্য অনুমোদিত কাজে ব্যবহার করা যাবে। ঋণপত্র বা এলসি চুক্তি এবং ইনভয়েস আগের মতো অবাধে বিনিময়যোগ্য অথবা অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পাদিত হবে। পরে প্রচলিত বিনিময় হার অনুযায়ী সেই বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য টাকায় রূপান্তর করে ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তি করা হবে। আমদানি লেনদেনের ক্ষেত্রে আমদানিকারকের কাছ থেকে পাওয়া টাকা ভোস্ট্রো হিসাবে জমা হবে। আর রপ্তানি লেনদেনের ক্ষেত্রে ওই হিসাব থেকে রপ্তানিকারকের অনুকূলে অর্থ পরিশোধ করা যাবে।আড়ও পড়ুন,দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম নতুন ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ করে আমদানি ও রপ্তানির বিপরীতে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়েছে। টাকায় রপ্তানি আয় গ্রহণকারী রপ্তানিকারকেরা নির্দিষ্ট সুবিধার আওতায় বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করতে পারবেন। এসব বৈদেশিক মুদ্রা রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল আমদানি এবং ইডিএফ ঋণ পরিশোধসহ অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া ভোস্ট্রো হিসাবে জমা থাকা অতিরিক্ত অর্থ বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগেও ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা এফডিআই এবং বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ। পাশাপাশি বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল এবং ওপেন অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে এসব অর্থ বাংলাদেশে থাকা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত নিয়ম মেনে হিসাবের অর্থ বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই কাঠামোতে বিদ্যমান নথি ব্যবস্থাপনা রিপোর্টিং এবং পরিপালন ব্যবস্থা বহাল থাকবে। এর পাশাপাশি টাকায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য একটি অতিরিক্ত মাধ্যম তৈরি হলো। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে উপযুক্ত বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেনদেনে টাকার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনতে নতুন এই ব্যবস্থা ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটেও ঈশ্বরদী ইপিজেডে রপ্তানির রেকর্ড গতি

দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়লেও রপ্তানি আয়ে ধারাবাহিক সাফল্য দেখাচ্ছে পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেড। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই ইপিজেড থেকে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২৮৯ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা বেড়েছে ৩১ মিলিয়ন ডলারের বেশি।শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চল ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।পাবনার পাকশীতে পদ্মা নদীর তীরে ৩০৮ দশমিক ৯৭ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে ঈশ্বরদী ইপিজেড। ২০০১ সালে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর পর দুই দশকের বেশি সময়ে এটি পরিণত হয়েছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম শিল্পকেন্দ্রে।এখানে শুধু তৈরি পোশাক নয়—উৎপাদিত হচ্ছে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, উইগ, ব্যাটারি, শিল্পকারখানার গ্লাভস, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, কেমিক্যাল, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল, ইয়ার্ন ও রাবারজাত পণ্য।অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরে ঈশ্বরদী ইপিজেডের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার।বর্তমানে ইপিজেডে চালু রয়েছে ২৭টি কারখানা। আরও ৯টি কারখানা বাস্তবায়নাধীন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে চীন, আড়ও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্র থেকে গানভরের প্রথম এলএনজি কার্গো দেশেহংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান।“নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে...”ইতোমধ্যে তিনটি টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের জন্য চীনের তিনটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব কারখানা চালু হলে তৈরি হতে পারে কয়েক হাজার নতুন কর্মসংস্থান।বর্তমানে ঈশ্বরদী ইপিজেডে সরাসরি কাজ করছেন প্রায় ২০ হাজার ৯২৯ জন। এর মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ১৪ হাজার ৫৩৪ জন।সংশ্লিষ্টদের মতে, পণ্যের বৈচিত্র্য, পরিবেশবান্ধব শিল্প, দক্ষ জনশক্তি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ ঈশ্বরদী ইপিজেডের অন্যতম শক্তি। এখানে রয়েছে দেশের প্রথম লিড প্লাটিনাম সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি ‘ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও’।তবে শিল্পের এই সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু হলে বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে ঈশ্বরদী ইপিজেড। এখন নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই সম্ভাবনা আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটেও ঈশ্বরদী ইপিজেডে রপ্তানির রেকর্ড গতি