পরিবেশ রক্ষায় ধানসিঁড়ি ইকো ভিলেজে নারিকেল চারা রোপণ
সবুজায়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি ইকো ভিলেজে রোপণ করা হয়েছে ২০০টি নারিকেল চারা। বরিশাল বিভাগে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ নারিকেল চারা রোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঝালকাঠিতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ঝালকাঠি পৌরসভার সহযোগিতায় ধানসিঁড়ি ইকো ভিলেজে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।ধানসিঁড়ি ইকো ভিলেজে পৌঁছে ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার এর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। ইকো ভিলেজের প্রাকৃতিক পরিবেশ, সবুজায়ন এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তিনি খোঁজ নেন। পরে ইকো ভিলেজ প্রাঙ্গণে নারিকেল চারা রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।এ সময় তিনি নিজ হাতে নারিকেল চারা রোপণ করেন। পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় মোট ২০০টি নারিকেল চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, পরিকল্পিতভাবে এসব চারা রোপণ ও পরিচর্যা করা হলে ধানসিঁড়ি ইকো ভিলেজের পরিবেশ আরও সবুজ ও নান্দনিক হয়ে উঠবে।ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পরিকল্পিতভাবে নারিকেল চারা রোপণ করা হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি সবুজায়ন বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নারিকেল উৎপাদন বাড়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, লাগানো গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।আড়ও পড়ুন,সরাইলে দুই নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রধান আসামি গ্রেফতার এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।ঝালকাঠি শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ধানসিঁড়ি ইকো ভিলেজকে শিশু, প্রবীণসহ সব বয়সী মানুষের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও মনোরম পরিবেশে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।বরিশাল বিভাগে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ নারিকেল চারা রোপণের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে নারিকেল উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নারিকেল গাছ পরিবেশের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে নারিকেল গাছের বাগান ও সবুজ বলয় তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবে নারিকেল উৎপাদনের সুযোগও বাড়তে পারে।অনুষ্ঠানে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক জুলিয়া সুকায়নাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।কর্মসূচিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং নারিকেল উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ধানসিঁড়ি ইকো ভিলেজকে আরও পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সুন্দর করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তৈরি করে নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবীর ভিত্তি। সেই লক্ষ্যেই ধানসিঁড়ি ইকো ভিলেজে শুরু হওয়া এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।