শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এনবিআরের

৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এনবিআরের

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর। কর প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, করদাতা সেবার মানোন্নয়ন এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করে এই লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এবার রাজস্ব কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে ‘থ্রি-আর’ বা তিনটি নীতি গ্রহণ করেছে এনবিআর। এগুলো হলো—রিকভারি বা পুনরুদ্ধার, রেস্টোরেশন বা পুনর্বহাল এবং রিকনস্ট্রাকশন বা পুনর্গঠন।রিকভারি কৌশলের আওতায় রাজস্ব আদায়ে গড়ে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রেস্টোরেশনের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানো এবং ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আর রিকনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়িয়ে স্বেচ্ছায় কর পরিপালন নিশ্চিত করতে চায় এনবিআর।চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর অনুবিভাগে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি, ভ্যাট অনুবিভাগে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি এবং কাস্টমস অনুবিভাগে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।আড়ও পড়ুন,আয়কর রিটার্নে ৫ শতাংশ প্রণোদনা পেতে হাতে আর চারদিনআয়কর খাতে কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার, উৎসে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর পরিপালন জোরদার এবং করসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ খাতে নিয়মিত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর ফাঁকি থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি এবং বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ থেকে আরও কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের প্রক্ষেপণ রয়েছে।ভ্যাট খাতেও প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি এডিপি বাস্তবায়ন, তামাকজাত পণ্য, বকেয়া রাজস্ব আদায় এবং ভ্যাট নিবন্ধনের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অবৈধ সিগারেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নজরদারি এবং বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পরিকল্পনাও রয়েছে।অন্যদিকে কাস্টমস খাতে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বকেয়া রাজস্ব আদায়, গোয়েন্দা তৎপরতা, পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা, নিলাম, আমদানিপণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্য নির্ধারণ এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধের মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।এনবিআরের কর্মকর্তাদের আশা, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনে সমন্বিত পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগের লক্ষ্য

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ বা অ্যামচ্যাম একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সরকার প্রস্তুততিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। বিনিয়োগ প্রযুক্তি কর্মসংস্থান জ্ঞান ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি দেশের জাতীয় রাজস্বেও তাদের অবদান ২০ শতাংশের বেশি।বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সরকার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।তিনি বলেন, আড়ও পড়ুন,সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ছাড়াল সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার রেকর্ডকোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যা সরকারের কাছে উত্থাপন করা হলে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এর উদাহরণ হিসেবে কর্টেভা বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স-সংক্রান্ত জটিলতা এক মাসের মধ্যে সমাধানের কথা তুলে ধরেন তিনি।বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় দেশ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৌশলগত অবস্থান তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং প্রযুক্তি ডিজিটাল উদ্ভাবন স্বাস্থ্যসেবা উৎপাদন ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে শুধু সম্ভাবনা যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্যতা সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো নিশ্চিত করা প্রয়োজন।এ লক্ষ্যেই ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ ডিজিটালাইজেশন এবং বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগের লক্ষ্য