পৃথিবীর গড় তাপমাত্রায় নতুন রেকর্ডের শঙ্কা
পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারা যেন থামছেই না। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড হতে পারে।শুধু চলতি বছর নয়, সামনে আরও বড় ধরনের উষ্ণতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরে আসন্ন সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরন বদলে যেতে পারে। এর ফলে কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। সাধারণত জুলাইকে বছরের সবচেয়ে উষ্ণ মাস হিসেবে ধরা হলেও এবার আগস্টের তাপমাত্রা জুলাইয়ের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানিয়েছেন, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ব্যাপক বিস্তার দেখা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। আড়ও পড়ুন,বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের দামএল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার পরিবর্তন ঘটে। উষ্ণ দশায় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সমুদ্রে জমা হওয়া অতিরিক্ত তাপশক্তি ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক তাপমাত্রার ওপর আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এরই মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ছে। পরিবর্তন হচ্ছে বৃষ্টিপাতের ধরনও। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে খরা বন্যা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো এবং দ্রুত কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি কৃষি জনস্বাস্থ্য অর্থনীতি ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।