সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য বর্তমানে চার দেশে ১৭ দিনের শিক্ষা সফরে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ থেকে ২৬ জন সংসদ সদস্যের সঙ্গে স্ত্রীও রয়েছেন। এছাড়া দলের কয়েকজন নেতা পরিবারের সদস্য এবং একজন লেখকও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।জামায়াতের পক্ষ থেকে এই সফরকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন গত ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় অনেক নেতার সংসদীয় কার্যক্রম ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতায় ঘাটতি রয়েছে। তাই দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বিদেশে নিয়ে বিভিন্ন দেশের সংসদ ব্যবস্থা নেতৃত্ব রাষ্ট্র পরিচালনা শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আড়ও পড়ুন,পলাতকরা দেশ অশান্তের চেষ্টা করছে দাবি রিজভীরগত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর দুই দফায় সফরকারী দলের সদস্যরা মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সেখানে তিন দিন অবস্থানের পর ১৭ সেপ্টেম্বর তারা সিঙ্গাপুরে যান। সিঙ্গাপুরে নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন তারা এবং একটি সিম্পোজিয়ামেও অংশ নেন। সেখানে সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন ও বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর তারা ফিলিপাইনে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাকেও বিদ্যালয়ের সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।শিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেফগার্ডিং লিডারশিপ সামিট ২০২৬।রোববার ঢাকার লো মেরিডিয়ান হোটেলে হেইলিবারি ভালুকা ও কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে কাজ করা পেশাজীবীরা সম্মেলনে অংশ নেন। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।সম্মেলনের শুরুতে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের কান্ট্রি লিড সারওয়াত রেজা বলেন, বিদ্যালয়ের উৎকর্ষের ধারণাকে শুধু একাডেমিক ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।আড়ও পড়ুন,চানখারপুলে মেসকক্ষে জবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, তদন্তে পুলিশপ্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত মান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।সম্মেলনে বিদ্যালয় নেতৃত্বের ভূমিকা এবং শিশু সুরক্ষার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।আলোচনায় শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর শৃঙ্খলাবিধান, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া, অভিযোগ জানাতে অনীহা এবং কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতার বিষয় উঠে আসে।আলোচকরা বলেন, শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন স্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন, নিরাপদে অভিযোগ জানানোর পরিবেশ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার ধারাবাহিক পর্যালোচনা।সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিদ্যালয়প্রধানদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।আয়োজকদের মতে, শিশু সুরক্ষা কোনো একক ব্যক্তি বা একটি নীতিমালার বিষয় নয়। বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত দায়িত্ববোধের মাধ্যমেই নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।