শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
গালওয়ান সংঘাত নিয়ে নির্মিত সালমানের সিনেমা মুক্তির পথে

গালওয়ান সংঘাত নিয়ে নির্মিত সালমানের সিনেমা মুক্তির পথে

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তির জন্য সরকারি ছাড়পত্র পেয়েছে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘মাতৃভূমি’। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৩ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে সিনেমাটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীপাবলির পর সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করছেন নির্মাতারা। সিনেমাটি প্রথমে ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নামে ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মাতৃভূমি’। ২০২০ সালে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘটিত সংঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। বিষয়বস্তু নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আপত্তি ওঠায় দীর্ঘদিন ধরে এর মুক্তি আটকে ছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমার বিষয়বস্তু এবং চীন-সংক্রান্ত কিছু প্রসঙ্গ নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আপত্তি ছিল। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে সিনেমার কিছু অংশে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন পড়ে এবং মুক্তির সময়সূচিও পিছিয়ে যায়। পরে সিনেমাটির সংশোধিত সংস্করণ জমা দেন নির্মাতারা।আরও পড়ুন,তৃণমূলের পর এবার রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী কোয়েল মল্লিকবলিউড হাঙ্গামার এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সংশোধিত সংস্করণ পর্যালোচনার পর ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সিনেমাটিকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। এর ফলে মুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্মাতারা আগামী নভেম্বরে সিনেমাটি মুক্তি দিতে আগ্রহী। সম্ভাব্য মুক্তির তারিখ হিসেবে ১৩ নভেম্বরকে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত মুক্তির তারিখ নির্মাতাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে। ‘মাতৃভূমি’ পরিচালনা করেছেন অপূর্ব লাখিয়া। এতে সালমান খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন চিত্রাঙ্গদা সিং। গালওয়ান উপত্যকার সংঘাতকে কেন্দ্র করে নির্মিত হওয়ায় সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। এদিকে সালমান খানের হাতে রয়েছে আরও একটি নতুন সিনেমা। ভামশি পেইডিপল্লির পরিচালনায় নির্মিত ওই সিনেমার নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত ‘এসভিসি-৬৩’ নামে পরিচিত এই ছবিতে সালমানের বিপরীতে অভিনয় করছেন নয়নতারা। সব মিলিয়ে সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ার পর ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সিনেমাটি নির্ধারিত সময়ে মুক্তি পায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বাব আল–মানদেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইয়েমেনে তীব্র সংঘাত

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল–মানদেব প্রণালি ঘিরে ইয়েমেনে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ইরান–সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী।ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে ব্যাপক লড়াই চলছে। সরকারি বাহিনী এই সংঘাতকে ‘বাঁচা-মরার লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, মোখা শহরের কাছে হুতিদের যানবাহন ও অস্ত্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে হুতি গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল–নাজিলি জানিয়েছেন, মোখা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে মোখা–ধুবাব সড়কে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।এর আগে বৃহস্পতিবার হুতিরা মোখা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরদিন শুক্রবার তারা মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নেয় বলে দাবি করা হয়েছে। আড়ও পড়ুন,ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ইরান-আমিরাতের একসঙ্গে যুদ্ধবিরতির আহ্বানকৌশলগত এই দ্বীপ বাব আল–মানদেব প্রণালির কাছে অবস্থিত।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল–মানদেব দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনে লড়াই তীব্র হওয়ার পর প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরেও রয়েছে তীব্র উত্তেজনা। ফলে হরমুজ ও বাব আল–মানদেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথেই সংকট তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।এর মধ্যেই হামলার পর সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়ার খবর এসেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানির ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।হুতিরা বাব আল–মানদেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে চলমান সংঘাত শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকট নয় বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্যও বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।

বাব আল–মানদেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইয়েমেনে তীব্র সংঘাত