শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ক্রসফায়ার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফেরার অপেক্ষায় সরকার

ক্রসফায়ার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফেরার অপেক্ষায় সরকার

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে এসেছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনার পরিণতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভোগ করতে হবে। একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ কেউ ভালোভাবে নেননি। জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতেও বিচার-পরবর্তী সময়ে কিছু মানুষের মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই বিচারগুলোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিরাও মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ পছন্দ করেননি। আরও পড়ুন,শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম চাইলেন শ্রমমন্ত্রীতাঁর মতে, একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর তাঁর বিচার সৃষ্টিকর্তার কাছে হবে। যারা এ ধরনের কাজ করেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত সমাজে নিন্দিত হবেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য মানুষের প্রশংসা বা সমর্থন পাবেন না। চব্বিশ-পরবর্তী সময়ে মৌলবাদী ও অতি ডানপন্থী উগ্রবাদীদের তৎপরতা এবং টঙ্গীতে এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সরকার এসব ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। টঙ্গীর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে এমন প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আইন ভঙ্গ করে কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারবে না সরকারের পক্ষ থেকে এমন স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলে এসব ঘটনা কমে আসবে। এ প্রবণতা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকার তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি এবং ভবিষ্যতেও আসবে না। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও সরকার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব বিষয়কে বাংলাদেশ মেনে নিয়েছে এভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

সরকারকে নয় ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথেই বিএনপি সরকার হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর গত সাত মাসে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন থেকে সরকারকে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত। রোববার ১৮ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি এবি পার্টি। শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে। গণভোটের বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের মতপার্থক্য ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত চেয়েছিল নির্বাচন থেকে আগে গণভোট আয়োজন করা হোক, যাতে বিষয়টি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও পড়ুন,সাত মাসে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি: হাসনাতবিরোধীদলীয় নেতা আরও অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তাঁর দাবি, গণভোটের রায় যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনে যেতে হতো না। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্য বরাদ্দ পাননি বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সরকারি দলের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ বিরোধী দলের সদস্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ সময় তিনি মহিষের ওপর কর আরোপের বিষয়টিও তুলে ধরে সরকারের নীতির সমালোচনা করেন। জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনীতির অবসান এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হবে বলে মানুষ আশা করেছিল। কিন্তু দেশকে আবারও পুরোনো ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে অটল থাকবে। তাঁর ভাষ্য, সরকারকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিলেও সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন থেকে দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে তাদের লক্ষ্য।

সরকারকে নয় ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত

মোদি সরকারের সমালোচনা করে বিতর্কে সালমান রুশদি

ভারতে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি। ভারতের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে আশার আলো হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়ান আমেরিকান রাইটার্স ওয়ার্কশপের তহবিল সংগ্রহে আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন রুশদি। অনুষ্ঠানে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। সালমান রুশদি বলেন, ভারতে বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তবে দেশটির তরুণ-তরুণীরা দীর্ঘদিন পর মানুষের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছেন। এ সময় তিনি ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে উদ্‌যাপন এবং এর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন সাংবাদিক ও লেখক অমিতাভ কুমার। রুশদির এই বক্তব্যের পর ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক মহল ও ডানপন্থী চিন্তকদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অতীতে ইসলামি কট্টরপন্থার সমালোচনার কারণে যাঁরা তাঁকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন, তাঁদের একাংশ এখন মোদি সরকারের সমালোচনায় তাঁর অবস্থানের বিরোধিতা করছেন। ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অতীত স্মৃতিও তুলে ধরেন সালমান রুশদি। আরও পড়ুন,৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথশৈশবে বোম্বেতে বেড়ে ওঠার সময় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একসঙ্গে উৎসব উদ্‌যাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন কে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্টান কিংবা পার্সি তা বিবেচনা না করে সবাই একসঙ্গে আনন্দে অংশ নিতেন। কিন্তু বর্তমান ভারতে সেই চিত্র আর আগের মতো দেখা যায় না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কও সামনে এসেছে। একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এবার পূজামণ্ডপে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কট্টরপন্থীদের একাংশের প্রচারণাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মা চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারও ওই নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে ‘ককরোচদের মা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারতে ‘আরশোলারা’ গণতন্ত্রের জন্য লড়ছে। তাঁদের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সালমান রুশদির বক্তব্যের পক্ষে অনেকে সমর্থন জানালেও, তাঁর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

মোদি সরকারের সমালোচনা করে বিতর্কে সালমান রুশদি

বদলি বাণিজ্য বন্ধে লটারি, গণপূর্তে স্বচ্ছতা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে সরকার

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়ন করা হচ্ছে লটারির মাধ্যমে। বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং যোগ্য কর্মকর্তাকে উপযুক্ত স্থানে পদায়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, এবার লটারির আওতায় থাকছেন ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলী। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়ের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আপাতত এ কার্যক্রমের বাইরে রাখা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জাকারিয়া তাহের বলেন, এর আগে গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, আগস্টে ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট এক হাজার ৪৩০ জন কর্মকর্তাকে এ পদ্ধতিতে বদলি-পদায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, মানবিক কারণে কারও বিশেষ প্রয়োজন থাকলে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।আরও পড়ুন,আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ, ৩৫ বছরের পর সুযোগ সীমিত হতে পারেকাউকে হয়রানি করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়; বরং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও মানবিক রাখাই লক্ষ্য। গণপূর্ত বিভাগের ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে রূপপুর প্রকল্পকে ঘিরে যে বদনাম তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে অধিদপ্তরকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমঝোতা করা হবে না এবং শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। এদিকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে একটি ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের কোথায় কত জমি রয়েছে, কোন জমি দখলে আছে এবং কোনগুলো দখলের বাইরে—এসব তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেও কাজ চলছে। আবাসন বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—রাজউক নিয়েও কাজ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, বদলি-পদায়ন থেকে শুরু করে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আবাসন বরাদ্দ—সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

বদলি বাণিজ্য বন্ধে লটারি, গণপূর্তে স্বচ্ছতা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে সরকার

কাতার থেকে আরও দুই কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে কাতার থেকে আরও দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। দীর্ঘমেয়াদি সরকারি পর্যায়ের চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে এই অতিরিক্ত এলএনজি কেনা হবে।বুধবার চলতি বছরের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৬তম সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তা অনুমোদন দেয়।অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী অতিরিক্ত এলএনজির কার্গো দুটি আগামী ৬ নভেম্বর ও ২২ নভেম্বর বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে জ্বালানির চাহিদা পূরণে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই অতিরিক্ত কার্গো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আড়ও পড়ুন,ভারতীয় রুপির বিপরীতে দুই বছরে ১১.৬ শতাংশ শক্তিশালী টাকাসভায় জানানো হয় প্রতিটি এলএনজি কার্গোর মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউতে জেকেএম মূল্যের চেয়ে শূন্য দশমিক শূন্য দুই মার্কিন ডলার কম হার প্রযোজ্য হবে। এই মূল্য বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্যের থেকে ভিন্ন।দুটি অতিরিক্ত এলএনজি কার্গোর সরবরাহকারী হিসেবে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসিকে সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি পর্যায়ের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরাসরি সরবরাহ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই প্রতিষ্ঠানটিকে সরবরাহকারী হিসেবে রাখা হয়েছে।দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপরও নির্ভরতা বাড়ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শিল্প ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সরকারের চলমান জ্বালানি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে অতিরিক্ত এই দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কার্গো দুটি দেশে পৌঁছালে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় তা যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে।

কাতার থেকে আরও দুই কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

ডিজেলে প্রতিদিন ১০৯ কোটি টাকা লোকসান সরকারের

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ডিজেল বিক্রিতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারি হিসাবে আগের দরে প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছিল। এতে শুধু ডিজেল খাতেই প্রতিদিন প্রায় ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি।মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।সরকারের হিসাবে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারত। এর আগে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখায় বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এই লোকসান কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমাতে সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।আড়ও পড়ুন,দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দামনতুন দরে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। অকটেনের দাম ১৪৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬৫ টাকা। পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।সরকার বলছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন কম থাকায় সীমান্তপথে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। কলকাতায় ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা এবং পাকিস্তানে প্রায় ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা বলে সরকারি তুলনায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও ডিজেল বিক্রিতে সরকারের ভর্তুকি বা ঘাটতি পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। কর্মকর্তাদের হিসাবে নতুন দামেও প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। 

ডিজেলে প্রতিদিন ১০৯ কোটি টাকা লোকসান সরকারের

নিরাপদ অভিবাসনে জালিয়াতি বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার

অভিবাসন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করা, জাল নথি ও প্রতারণা বন্ধ এবং অবৈধ সিন্ডিকেটের হাত থেকে বাংলাদেশিদের সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশী বাংলাদেশিরা প্রায়ই অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী ও অবৈধ সিন্ডিকেটের প্রতারণার শিকার হন। এসব চক্র জাল নথি ব্যবহার করে একদিকে নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করছে।অভিবাসন সেবা আরও সুসংহত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক অভিবাসন শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি মোকাবিলায় অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো আরও বেশি বাংলাদেশি যাতে দক্ষ কর্মী হিসেবে বৈধভাবে বিদেশে যেতে পারেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যেন সহজ ও নিরাপদ হয়।এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,কৃষক শক্তিশালী হলে দেশ শক্তিশালী হবে কৃষিমন্ত্রী এতে পাসপোর্ট অধিদফতর, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র, প্রবাসীকল্যাণ, বাণিজ্য, আইন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকছেন।সরকারের ‘এক নাগরিক, এক কার্ড’ উদ্যোগের আওতায় পর্যায়ক্রমে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে নাগরিকদের তথ্য যাচাই আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে জাল নথি তৈরি ও ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণার সুযোগও কমে আসবে।তবে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের সঠিক ও যাচাই করা নথিপত্র নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।সরকারের নেওয়া সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল বিদেশযাত্রার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

নিরাপদ অভিবাসনে জালিয়াতি বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার

জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অক্টোবরের মধ্যে আরও ছয় কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।রোববার অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৪তম সভায় এলএনজি কেনার বিষয়ে তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতিতে দুটি কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এর মধ্যে একটি কার্গো আগামী ৯ থেকে ১০ অক্টোবর এবং অন্যটি ২৭ থেকে ২৮ অক্টোবর দেশে সরবরাহের কথা রয়েছে।প্রথম কার্গোটির জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার। যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড এই দর প্রস্তাব করেছে।অন্য কার্গোটির জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ২৯ দশমিক ৭৯৫ মার্কিন ডলার।আড়ও পড়ুন,বিদেশে ভাষা শিখতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ, দিচ্ছে সরকারএই দর প্রস্তাব করেছে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড।এছাড়া সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ডারাব ইনকরপোরেটেড থেকে আরও দুটি কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির প্রতি এমএমবিটিইউ দাম পড়বে ১৭ মার্কিন ডলার।একই পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মাইন্ড মিংগল এলএলসি থেকে আরও দুটি কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ মার্কিন ডলার।অর্থাৎ আন্তর্জাতিক কোটেশনে কেনা দুই কার্গোর তুলনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা চার কার্গোর এলএনজির দাম তুলনামূলকভাবে কম পড়ছে।সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৪তম সভায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এলএনজি ক্রয়সংক্রান্ত এই তিনটি প্রস্তাব অনুমোদনের মধ্য দিয়ে মোট ছয় কার্গো এলএনজি কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে গেল।

জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অক্টোবরের মধ্যে আরও ছয় কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার