বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
মার্কিন কর্মীদের চাকরি সুরক্ষার যুক্তিতে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসে বাধা

মার্কিন কর্মীদের চাকরি সুরক্ষার যুক্তিতে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসে বাধা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন কর্মীদের চাকরি ও মজুরি সুরক্ষার যুক্তিতে আটটি বড় প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী শ্রম সার্টিফিকেশন বা পিইআরএম কর্মসূচির আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার ৯ অক্টোবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অ্যাডোবি, কগনিজেন্ট, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনির মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে পিইআরএম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য স্পন্সর করতে পারে। মার্কিন শ্রম দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠানের নতুন পিইআরএম আবেদন গ্রহণ করা হবে না। একই সঙ্গে আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও স্থগিত থাকবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মার্কিন শ্রমসচিব কিথ সান্ডারলিং এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এ সময় দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জালিয়াতিবিরোধী টাস্কফোর্সের প্রধান উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন,হরমুজে ট্যাংকারে হামলা বাড়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ধরনের কাজের ভিসা বাতিল করা নয়। বরং গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় স্থায়ী শ্রম সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় আবেদন স্থগিত করা হয়েছে। মার্কিন শ্রমসচিবের দাবি অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করেছে। এ সময়ে তারা ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসার অনুমোদন এবং ১ লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সার্টিফিকেশন পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পিইআরএম প্রক্রিয়ায় সাধারণত নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয়, সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করার মতো পর্যাপ্ত যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। এই শর্ত পূরণ হলে নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীর গ্রিন কার্ডের আবেদন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান।

বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় বিশ্বনেতাদের চাপ বাড়ানোর আহ্বান

গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা থামছে না। গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ত্রাণ সংস্থা ইসলামিক রিলিফ। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর প্রকাশিত সংস্থাটির তথ্যে উঠে এসেছে গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির চিত্র। ইসলামিক রিলিফের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর গত এক বছরে গাজায় কমপক্ষে এক হাজার ৪৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২০ জন শিশু। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন প্রায় একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব আরও বেশি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এক হাজার ৪৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং পাঁচ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন এবং আহত হয়েছেন ২৮ জন। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা অন্তত ৭৪ হাজার ২৫৪। আরও পড়ুন,যুদ্ধ অবসানে বাস্তব উদ্যোগ নিয়েছে ইরান বললেন পুতিনফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মধ্য গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই দিন দক্ষিণ গাজার মধ্য খান ইউনিসের একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ইসরাইলি অভিযানের সময় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট। ইসলামিক রিলিফ আরও জানিয়েছে, ইসরাইলের নির্ধারিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ব্যবহার করে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে সংস্থাটির অভিযোগ। এর ফলে প্রায় ২১ লাখ মানুষকে গাজার অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে।

বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় বিশ্বনেতাদের চাপ বাড়ানোর আহ্বান

বিশ্ব ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য শক্তি জোগায় সুরক্ষা দেয় প্রোটিন

আজ বিশ্ব ডিম দিবস। পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। দেশে বর্তমানে বছরে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা প্রায় ১৩৭টি। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যায় চাপে রয়েছেন প্রান্তিক পোলট্রি খামারিরা। এ পরিস্থিতির মধ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা ২০০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার ও খাতসংশ্লিষ্টরা।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। প্রতিদিন উৎপাদনের পরিমাণ ৬ কোটিরও বেশি। এই উৎপাদনের ভিত্তিতে দেশে মাথাপিছু বছরে ডিমের প্রাপ্যতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৭টিতে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে একজন মানুষের বছরে ন্যূনতম ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। সেই হিসাবে বাংলাদেশের বর্তমান ডিমের প্রাপ্যতা এই পরিমাণের চেয়ে বেশি। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মাথাপিছু ডিমের ব্যবহার এখনো কম। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাথাপিছু ডিম ব্যবহারে মেক্সিকো শীর্ষে রয়েছে। আরও পড়ুন,বাজারে চাল কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচে ক্রেতারাদেশটিতে একজন মানুষ বছরে গড়ে ৪০৯টি ডিম ব্যবহার করেন। জাপানে এই সংখ্যা ৩৩৭টি। উন্নত দেশগুলোতে বছরে মাথাপিছু ডিম ব্যবহারের পরিমাণ গড়ে প্রায় ২৭০ থেকে ৩০০টি। ডিমের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়লেও খামারিদের জন্য পরিস্থিতি সহজ নয়। পোলট্রি ফিড, মুরগির বাচ্চা, ওষুধ ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে খামার থেকে ডিম বিক্রির দাম এবং খুচরা বাজারে ভোক্তাদের কেনা দামের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকছে। সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে সেই বাড়তি দামের সুফল অনেক ক্ষেত্রে প্রান্তিক খামারিরা পাচ্ছেন না। ফলে উৎপাদন চালিয়ে যেতে গিয়ে তাঁদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের সহজলভ্য উৎস হিসেবে ডিমের গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে এবারের বিশ্ব ডিম দিবসে। চলতি বছরের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘শক্তি জোগায়, সুরক্ষা দেয় যে প্রোটিন’। ডিমের উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিনের পাশাপাশি পেশির বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং সুস্থ বার্ধক্যে এর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য শক্তি জোগায় সুরক্ষা দেয় প্রোটিন

সাইবার সুরক্ষা আইনে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে

দেশের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনলাইনে অপতথ্য বন্ধে মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।তিনি বলেছেন প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন এখনও চূড়ান্তভাবে পাস হয়নি। ফলে আইনটিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ কাজে লাগানোর কথাও জানান তিনি।শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী এবং বাংলাদেশ জার্নালিস্টস কাউন্সিল বা বিজেসির পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান।তিনি বলেন দেশের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এমন একটি সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োজন যা অনলাইন জগতে নাগরিকদের নিরাপত্তা দেবে। একই সঙ্গে অনলাইনে গুজব মিথ্যাচার ও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া বন্ধেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।তবে শুধু আইন করে অপতথ্য মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বলেও আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনলাইনে কোনো তথ্য গ্রহণ ও প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।আড়ও পড়ুন,সাইবার অপরাধ ঠেকাতে নতুন ইউনিট গঠনের ঘোষণাবর্তমান সময়ে অনলাইনভিত্তিক সাংবাদিকতার ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল কনটেন্ট থেকে আয়ের নতুন নতুন পদ্ধতিও তৈরি হচ্ছে। এসব নতুন বাস্তবতাকে নীতিমালার কাঠামোর মধ্যে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন গুজব মিথ্যাচার বা অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ সবার জন্য একই হওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের পরিচয় বিবেচনা না করে একই আইনি কাঠামোর আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।আলোচনা সভায় প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন সংশোধনী নিয়ে মতামত তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ জার্নালিস্টস কাউন্সিলের পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন প্রস্তাবনা নিয়েও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি কীভাবে আরও কার্যকর করা যায় তা নিয়েই সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাইবার সুরক্ষা আইনে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে