শরতের সৌন্দর্যে বিচিত্রা কেঁউ, পাতায় যেন রঙের মেলা
শরৎ এলেই বদলে যায় বাংলার প্রকৃতি। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর কাশফুলের পাশাপাশি গ্রামের বিল-ঝিলেও দেখা মেলে নানা রঙের ফুলের।এমনই এক শরতের সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গিয়ে দেখা মিলল এক দৃষ্টিনন্দন উদ্ভিদের—বিচিত্রা কেঁউ।জিন্দা পার্ক পেরিয়ে গ্রামের ভেতরে যেতেই রাস্তার দুই পাশে চোখে পড়ে পদ্ম ও শাপলা ফোটা বিল। চারপাশের সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পেরিয়ে দুপুরে ফেরা জিন্দা পার্কে। আর সেখানেই রেস্তোরাঁর সামনে নজর কাড়ে বাহারি পাতার এক গাছ।গাছটির কাণ্ডের শীর্ষে উজ্জ্বল লাল মঞ্জরি। তার ভেতর থেকে ফুটে আছে সাদা চোঙাকৃতির ফুল। প্রথম দেখাতেই বোঝা যায়—এটি কেঁউগাছ। তবে সাধারণ বুনো কেঁউ নয়, এটি বিচিত্রা কেঁউ।বুনো কেঁউ সাধারণত বনজঙ্গল, নালা ও ডোবার ধারে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে। আর বিচিত্রা কেঁউ মূলত বাগান ও উদ্যানে সৌন্দর্যবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে লাগানো হয়।দুই গাছের সবচেয়ে সহজ পার্থক্য পাতায়। বুনো কেঁউয়ের পাতা একেবারেই সবুজ। আর বিচিত্রা কেঁউয়ের পাতায় রয়েছে সবুজের সঙ্গে ঘিয়ে ও সাদা রঙের নান্দনিক রেখা। পাতাগুলো সর্পিলভাবে সাজানো থাকায় পুরো গাছটিকেই মনে হয় যেন প্রকৃতির হাতে সাজানো কোনো অলংকার।প্রায় দুই মিটার উচ্চতার এই গাছে উজ্জ্বল লাল মঞ্জরির মধ্যে ফুটে ওঠে সাদা ফুল।আড়ও পড়ুন,ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি নিয়ে বিতর্কফুলের মাঝখানে থাকে হলুদ রঙের ছোঁয়া। একটি ফুল সাধারণত এক থেকে দুই দিন স্থায়ী হয়।বিচিত্রা কেঁউয়ের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম হেলেনিয়া স্পেসিওসা ‘ভেরিগেটাস’। এর ইংরেজি নাম ভেরিগেটেড স্পাইরাল জিঞ্জার।গাছটির কন্দ আদার মতো দেখতে হওয়ায় একে আদাগোত্রীয় উদ্ভিদের সঙ্গে তুলনা করা হয়। বুনো কেঁউয়ের কন্দ, পাতা ও ফুল গ্রামীণ লোকজ চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এসব ঔষধি ব্যবহার বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।শুধু সৌন্দর্য নয়, বাড়ি, বাগান কিংবা উদ্যান সাজাতেও বিচিত্রা কেঁউ বেশ আকর্ষণীয়। প্রবেশপথ, বাগানের বিশেষ জায়গা কিংবা নিচু বেড়া হিসেবেও লাগানো যায় গাছটি।আধো ছায়াযুক্ত স্থানে এটি ভালো জন্মে। কন্দ ভাগ করে সহজেই নতুন গাছ তৈরি করা যায়।শরতের সাদা ফুল আর রঙিন পাতার এই বিচিত্রা কেঁউ তাই প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে হতে পারে এক অনন্য সৌন্দর্যের নাম।