শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার শঙ্কায় বাড়ছে উদ্বেগ

সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার শঙ্কায় বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকট তীব্র হতে পারে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে পৌঁছায়। লেনদেনের একপর্যায়ে দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। মে মাসের পর এই প্রথম ব্রেন্টের দাম এতটা বাড়ল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। এক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে দিন শেষে এই তেলের দাম দাঁড়ায় ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে। আগের দিনের তুলনায় দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চলছে। আরও পড়ুন,ভ্যাট রিটার্ন জমায় নতুন সময়সীমা নির্ধারণযুদ্ধবিরতির খবরে একপর্যায়ে তেলের দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা। এদিকে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করা হয়।সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, শুক্রবার ইয়ানবুর দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ইয়ানবু দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে হামলার আশঙ্কা তেল সরবরাহের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। জ্বালানিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক শ্রেইনার পার্কারও ইয়ানবু বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালিতে বাধার কারণে সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে এই বন্দরের গুরুত্ব বেড়েছে। ফলে সেখানে হামলা হলে তেলের সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সরবরাহ কমার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও যুদ্ধঝুঁকির বিমা খরচও বাড়বে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানিনির্ভর বিভিন্ন খাতে।