শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
হাদী হত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু

হাদী হত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু

শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর আগে সেখানে অবস্থান নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা। পদযাত্রা শুরুর পর বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত এই পদযাত্রা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সংগঠনটির ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। কর্মসূচির প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে প্রায় ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তেঁতুলিয়ায় গিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে। পথে বিভিন্ন বাজারে সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করবেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।আরও পড়ুন,তুরস্কে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি শফিকুর রহমানতিনি অভিযোগ করেন, হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত, আওয়ামী লীগ ও র জড়িত। তবে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অবস্থান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও তারা এর বিরোধিতা করবেন। হাদী হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ কোনো হত্যাকাণ্ড হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে বিবেচনার দাবি জানান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং গণভোটের রায় কার্যকর ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির দাবি, ‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর মাধ্যমে এসব দাবির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় তারা। তবে দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি বা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।

ঘাটাইলে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্ত্রী তামান্না ইসলম তন্নিকে (২০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো: রোমান মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে তাৎক্ষণিক আটক করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর খিলগাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।মৃত তন্নি দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন উত্তর খিলগাতি গ্রামের প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী রোমান মিয়া মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের শিবরামবাড়ি গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে রোমান মিয়া তার শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীর সাথে এক রাত্রিযাপন করেন। রাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি এবং মারামারি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী রোমান শ্বশুর বাড়ির পরিবারের সবাইকে ডেকে জানান তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে বুধবার ভোরে মুমূর্ষু অবস্থায় তন্নিকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  পরিবারের দাবি, তন্নির গলায় এবং সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের ধারণা রাতেই স্বামীর দেয়া কোনো আঘাতে তার মৃত্যু হয়।  আড়ও পড়ুন,বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কলেজছাত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, রিজভী পলাতকতন্নির বাবা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই রাতেই আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করতে এসেছি।’ এলাকাবাসী জানায়, এক বছর আগে রোমানের সাথে বিয়ে হয় তন্নির। রাতে রোমান তন্নির ঘরে ছিলেন এবং তাদের ঝগড়া হয়। এ ব্যাপারে দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হানিফ বলেন, ‘মেয়েটিকে অত্যাচার করে তার স্বামী মেরে ফেলেছে। মেয়েটির পরিবার একটি সুখী পরিবার। মাত্র এক বছর আগে অত্যন্ত ঘটা করে মেয়েটির বিয়ে হয়। এমন ঘটনা আগে কখনো আমাদের এলাকায় ঘটেনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সঠিক বিচার দাবি করছি।’ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকসেদুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত রোমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

ঘাটাইলে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

খাবার দেওয়া নিয়ে ঝগড়ার পর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় খাবার দেওয়া নিয়ে ঝগড়ার পর আট বছরের মেয়ের পাশে ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুমন সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী রিনা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন সুমন। রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাত নয়টার দিকে সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রী রিনা বেগমকে খাবার দিতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমন স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন। পরে স্বজনেরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।রাত ১০টার দিকে রিনা বেগম তাঁর আট বছরের মেয়েকে নিয়ে একটি ছোট কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সুমন ঘুমান পাশের বড় কক্ষে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক একটার দিকে সুমন স্ত্রীর কক্ষে গিয়ে মেয়ের পাশে ঘুমন্ত রিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।আড়ও পড়ুন,ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী আসিফ ও নাসীরুদ্দীনপুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর সুমন বাড়িতেই অবস্থান করেন। ভোরে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে কুমিল্লার দিকে চলে যান। পরে তিনি বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা এলাকায় অবস্থান করেন বলে পুলিশ জানায়।তাঁকে গ্রেপ্তারে গজারিয়া থানা-পুলিশের একটি দল কুমিল্লায় অনুসরণ করতে থাকে। শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।নিহত রিনা বেগমের সঙ্গে সুমন সরকারের প্রায় ১৭ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের ১৪ বছরের এক ছেলে ও আট বছরের এক মেয়ে রয়েছে। পুলিশ বলছে, এই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল।এ ঘটনায় রিনার ভাই সাফায়েত হোসেন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পরে গ্রেপ্তার সুমন সরকারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

খাবার দেওয়া নিয়ে ঝগড়ার পর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ