বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
সাত মাসে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি: হাসনাত

সাত মাসে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি: হাসনাত

জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএনপি গত সাত মাসে ১৭ বার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার ১৮ অক্টোবর রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আমার বাংলাদেশ পার্টি এবি পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এ অভিযোগ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি প্রতিদিনই একেকটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। অথচ দলটি বারবার জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিচ্ছে। তার দাবি, এরই মধ্যে সনদের ১৭টি ধারা লঙ্ঘন করেছে বিএনপি। সাত মাসে জনগণের সঙ্গে ১৭ বার প্রতারণা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এনসিপির এই নেতা বলেন, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে ৩০০ সংসদ সদস্যকে ১৮০ দিনের জন্য সংস্কারের ক্ষমতা দিয়েছিল। এ কারণে বারবার একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানানো হয়েছিল। আরও পড়ুন,জয়পুরহাটে ল্যাপটপ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপি নেতার অভিযোগকিন্তু গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গণভোটের ফলাফলের একটি অংশ মেনে নিলেও বাকি অংশ মানেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ছিল। তার অভিযোগ, বিএনপিও এখন একইভাবে নিজেদের পক্ষে থাকা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, আর বিপক্ষে গেলে তা মানছে না। গণভোটের ফলাফল পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, এর ফলে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপি একদিকে সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নিচ্ছে। তবে বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে দলটির বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এনসিপি নেতার এ বক্তব্য সামনে এলো।

চাঁদাবাজি ঠেকাতে মোড়ে মোড়ে দানবাক্স চান হাসনাত ও পাটওয়ারী

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে রাজধানীর বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় প্রতীকী ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি। সোমবারের এ কর্মসূচিতে দলের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অংশ নেন। তাঁরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন দানবাক্স স্থাপনের আহ্বান জানান। কর্মসূচিতে দুটি প্রতীকী দানবাক্স প্রদর্শন করা হয়। বাক্সের গায়ে লেখা ছিল ‘চাঁদাবাজদের মবতন্ত্র’ এবং ‘চান্দা ভাইকে চাঁদা নয় ভিক্ষা দিন’। এনসিপির নেতারা বলেন, এসব বাক্সে অর্থ জমা করে তা চাঁদাবাজদের ‘ভিক্ষা’ হিসেবে দেওয়ার প্রতীকী ধারণা তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য চাঁদাবাজির পরিবর্তে বিকল্প কর্মসংস্থানের বার্তা দেওয়া। বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে এনসিপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে প্রতীকী দানবাক্স হাতে বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।হাসনাত অভিযোগ করেন, বাজার, হাসপাতাল, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। তিনি দেশের প্রতিটি এলাকায় এমন দানবাক্স স্থাপনের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, চাঁদাবাজির পরিবর্তে দানবাক্স থেকে অর্থ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে সাধারণ মানুষকে চাঁদাবাজির চাপ থেকে রক্ষা করা যাবে।আড়ও পড়ুন,হাসনাতের ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ নিয়ে ছাত্রদল নেতা হামিমের সমালোচনাপরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রতিটি দোকানে এমন বাক্স রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেউ চাঁদা চাইতে এলে চাঁদা না দিয়ে তাকে দানবাক্স থেকে অর্থ নেওয়ার কথা বলা যেতে পারে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।  এরপর দানবাক্স নিয়ে বাংলামোটর থেকে হাতিরপুল এলাকায় মিছিল করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে তাঁরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার সামনে কর্মসূচি শেষ হয়।এনসিপির নেতারা চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের কথাও তুলে ধরেন। কর্মসূচিতে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদাবাজি ঠেকাতে মোড়ে মোড়ে দানবাক্স চান হাসনাত ও পাটওয়ারী

হাসনাতের ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ নিয়ে ছাত্রদল নেতা হামিমের সমালোচনা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর ঘোষিত ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ নিয়ে সমালোচনা করেছেন ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কর্মসূচিতে কাউকে অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানান।হামিম তার পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, এর আগে বন্যার অনুদানের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পোস্টে কোনো নথি বা স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের জীবনযাপনে পরিবর্তন এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যাদের সাধারণ স্যান্ডেল ও সিম্ফনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যেত, পরে তাদের দামি ব্র্যান্ডের জুতা ও আইফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে।আড়ও পড়ুন,জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত, অভিযোগ পলকেরএ ছাড়া আগে ক্যাম্পাসে সাইকেলে চলাফেরা করতেন—এমন কয়েকজনকে ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন গাড়িতে চলতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন হামিম। একই ধরনের বক্তব্য নিয়ে সোমবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।হামিমের পোস্টে আরও অভিযোগ করা হয়, গণভিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্জিত কথিত ‘কালো টাকা’ বৈধ করার চেষ্টা হতে পারে। এ কারণে তিনি কর্মসূচিতে কাউকে অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানান।

হাসনাতের ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ নিয়ে ছাত্রদল নেতা হামিমের সমালোচনা