চাঁদাবাজির প্রতিবাদে রাজধানীর বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় প্রতীকী ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি। সোমবারের এ কর্মসূচিতে দলের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অংশ নেন। তাঁরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন দানবাক্স স্থাপনের আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে দুটি প্রতীকী দানবাক্স প্রদর্শন করা হয়। বাক্সের গায়ে লেখা ছিল ‘চাঁদাবাজদের মবতন্ত্র’ এবং ‘চান্দা ভাইকে চাঁদা নয় ভিক্ষা দিন’। এনসিপির নেতারা বলেন, এসব বাক্সে অর্থ জমা করে তা চাঁদাবাজদের ‘ভিক্ষা’ হিসেবে দেওয়ার প্রতীকী ধারণা তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য চাঁদাবাজির পরিবর্তে বিকল্প কর্মসংস্থানের বার্তা দেওয়া। বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে এনসিপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে প্রতীকী দানবাক্স হাতে বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত অভিযোগ করেন, বাজার, হাসপাতাল, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। তিনি দেশের প্রতিটি এলাকায় এমন দানবাক্স স্থাপনের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, চাঁদাবাজির পরিবর্তে দানবাক্স থেকে অর্থ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে সাধারণ মানুষকে চাঁদাবাজির চাপ থেকে রক্ষা করা যাবে।
আড়ও পড়ুন,হাসনাতের ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ নিয়ে ছাত্রদল নেতা হামিমের সমালোচনা
পরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রতিটি দোকানে এমন বাক্স রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেউ চাঁদা চাইতে এলে চাঁদা না দিয়ে তাকে দানবাক্স থেকে অর্থ নেওয়ার কথা বলা যেতে পারে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। এরপর দানবাক্স নিয়ে বাংলামোটর থেকে হাতিরপুল এলাকায় মিছিল করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে তাঁরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার সামনে কর্মসূচি শেষ হয়।
এনসিপির নেতারা চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের কথাও তুলে ধরেন। কর্মসূচিতে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত