জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক। কয়েক মাস পর দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে যোগাযোগ হয়েছে। তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক চাপ ও পাল্টাপাল্টি সতর্কবার্তা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ কর্মকর্তারা। কয়েক ঘণ্টার এই যোগাযোগকে মার্কিন পক্ষ গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক বলে বর্ণনা করেছে। তবে ইরান জানিয়েছে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। বরং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের শর্ত জানানো হয়েছে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই জানিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল তেহরানের শর্তগুলো স্পষ্টভাবে জানানো। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের জব্দ সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
আড়ও পড়ুন,সংসদে নোটিশের গুরুত্ব না পেয়ে রাজপথে বিরোধী দল: শফিকুর রহমান
আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত। এ প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে আগেই পৌঁছানো হয়েছে। তবে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়েছে। ইরান সামরিক চাপ ও অবরোধ প্রত্যাহারকে আলোচনার অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থানও প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও তা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।এদিকে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য নতুন মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী যেকোনো নতুন হামলার জবাব দেওয়া হবে। ফলে একদিকে মধ্যস্থতার মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হুমকির কারণে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও রয়েছে।বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে যুদ্ধ বন্ধ করা অবরোধ প্রত্যাহার ইরানের সম্পদ ছাড় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এই যোগাযোগ কতটা বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ নেয় সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
মতামত