শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
উচ্চ দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এশিয়া

উচ্চ দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি পরিবহন বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক গ্যাসের বাজারে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এশিয়ার বাজারে এলএনজির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।বিশ্বের এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর বড় একটি অংশ আসত কাতার থেকে। সংঘাতের কারণে এই সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় এশিয়ার এলএনজির প্রধান মূল্যসূচক জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।বছরের শুরুতে জেকেএমে এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট বা এমএমবিটিইউ ১০ ডলারের নিচে ছিল। মার্চে তা ২২ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে কিছুটা কমলেও আবার বাড়তে শুরু করে এবং গত সপ্তাহে ২৫ ডলারের ওপরে উঠে বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।দাম বাড়ায় স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এলএনজি রফতানিকারক দেশগুলো বেশি আয় করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির এলএনজি রফতানি প্রায় সর্বোচ্চ সক্ষমতার পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশটির এলএনজি রফতানি ২৩ শতাংশ বেড়েছে।তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি এলএনজি খাতের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবর্তে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।ভারতে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন সময়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫ শতাংশ কমেছে। থাইল্যান্ড ১০ লাখ পরিবারকে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে সহায়তার পরিকল্পনা করেছে। এতে পাঁচ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।ভিয়েতনামের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভিনগ্রুপ প্রায় ৬৮০ কোটি ডলারের একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।আড়ও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের পথে চীনের দুই জায়ান্ট পান্ডাপাকিস্তানও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে এগোচ্ছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় ২০৩৫ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৯০ শতাংশ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য জানিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের ব্যয় কমার পাশাপাশি বড় আকারের ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির দাম কমে যাওয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন অনেক দেশের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টারের বিস্তারের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। তবে গ্যাস টারবাইনের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাধা তৈরি করছে।আন্তর্জাতিক গ্যাস ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির আশা করলেও হরমুজ সংকট এশিয়ার জ্বালানি পরিকল্পনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উচ্চমূল্য, সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং তুলনামূলক সস্তা নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ভবিষ্যতে এলএনজির চাহিদা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

কাতার সরবরাহ সংকটে ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো

এলএনজির বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। এশিয়ায় দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক দেশ এলএনজি কেনা কমিয়ে দিলেও শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজন মেটাতে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে।ইউরোপ শীত মৌসুমের আগে গ্যাসের মজুত বাড়ানোর কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজি সংগ্রহ করছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হচ্ছে। ইউরোপের বাড়তি চাহিদা এশিয়ার দেশগুলোর জন্য স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস সংগ্রহকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে।আড়ও পড়ুন,আফগানিস্তানের ১০ স্থানে পাকিস্তানের বিমান হামলাকাতার বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি সরবরাহকারীদের একটি হওয়ায় দেশটি থেকে সরবরাহে বিঘ্নের প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হরমুজ প্রণালির সংকটও পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এর সঙ্গে রাশিয়া থেকে ইউরোপের পাইপলাইনভিত্তিক গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউরোপের বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।চীন তুলনামূলকভাবে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি ও স্থলপথে রাশিয়ার গ্যাস আমদানির মাধ্যমে বাজারের অস্থিরতা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে যেসব দেশ স্পট মার্কেটের উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে পারছে না তাদের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠছে।বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতির অর্থ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম ও সরবরাহের ওপর বাড়তি নির্ভরতা। সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ এবং সামগ্রিক জ্বালানি ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কাতার সরবরাহ সংকটে ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো

আবারও ভারত-ধাক্কা, এশিয়ান গেমসের ফাইনাল থেকে ছিটকে বাংলাদেশ

দশ দিনের ব্যবধান। ভেন্যু আলাদা, টুর্নামেন্টও আলাদা। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেই ভারত—আর ফলও একই।দুবাইয়ের পর এবার জাপান। নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের পর এশিয়ান গেমসের শেষ চারের লড়াইয়েও ভারতের কাছে হেরে সোনার পদকের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ।কারোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৯৫ রান।ভারতের ইনিংসের সবচেয়ে বড় নায়ক শেফালি বর্মা। মাত্র ৪৯ বলে শতরান পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।জবাবে ১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ব্যাটাররা ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি।পুরো ২০ ওভারও খেলতে পারেনি নিগার সুলতানার দল।আড়ও পড়ুন,আফগানিস্তান টেস্টে নেই নাহিদ রানা ফিরতে পারেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ১৫ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।ফলে ভারতের কাছে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।দশ দিন আগে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই ম্যাচে ১০৯ রান করেছিল নিগাররা। এবার স্কোর আরও কমে ঠেকেছে ৮১-তে।এদিকে দিনের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের ১৭৭ রান ১৪ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।ফলে ২২ সেপ্টেম্বর সোনার পদকের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা।আর একই দিনে ব্রোঞ্জের পদকের জন্য মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।সোনার লড়াইয়ে জায়গা না হলেও ব্রোঞ্জ জিতে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট অভিযান শেষ করার সুযোগ এখনো রয়েছে নিগার সুলতানাদের সামনে।

আবারও ভারত-ধাক্কা, এশিয়ান গেমসের ফাইনাল থেকে ছিটকে বাংলাদেশ