আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে হাজতি পিচ্চি রাজা পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাননি। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে তাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে কোনাবাড়ী এলাকায় পালানোর নাটক সাজানো হয় বলে জানিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। সোমবার গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদরদপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে পিচ্চি রাজাকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে। পুলিশ কমিশনার জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে ২৯ জন আসামিকে প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকার পশ্চিমে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান বলে প্রথমে জানানো হয়। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় মামলা করা হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয় জিএমপির ডিবি দক্ষিণ বিভাগকে। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল জাকির হোসেন, সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।
আরও পড়ুন,ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে মন্টেনিগ্রো পার্লামেন্ট সদস্যের সাক্ষাৎ
তদন্তে সাক্ষ্য, আলামত ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, আদালত থেকে ফেরার পথে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রিজনভ্যান থামানো হয়। সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার চালকের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নিয়ে পিচ্চি রাজা ও আরেক হাজতি খাইরুল বাশারকে নামান। খাইরুল বাশারকে ভ্যানের সামনে রাখা হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর ভ্যানে ওঠেননি। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, আগে থেকেই অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে পিচ্চি রাজাকে তুলে দেওয়া হয়। এরপর কোনাবাড়ী এলাকায় তার পালানোর ঘটনা ঘটেছে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। তদন্তের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে জিএমপি।
মতামত