জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় শিক্ষার্থী ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করেছে, পুলিশের গুলিতে তাইম নিহত হওয়ার সময় কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে কথা বলেননি। এরপরও তাঁকে গুলি করা হয়। এমনকি তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করা এক ব্যক্তিকেও গুলি করার অভিযোগ তুলেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার, ১২ অক্টোবর, বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাটির যুক্তিতর্ক শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তাইমকে উদ্ধারের চেষ্টা করা ব্যক্তিকেও পুলিশ গুলি করে। পরে প্রাণভয়ে ওই ব্যক্তি তাইমকে ঘটনাস্থলে রেখেই দৌড়ে চলে যান। এ মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আরও পড়ুন,প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের আট মন্দিরের প্রতিনিধিদের মতবিনিময়
যুক্তিতর্ক চলাকালে ট্রাইব্যুনালে একটি ভিডিও দেখানো হয়। সেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে একটি ভিডিও দেখানোর সময় ইকবাল হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না।’ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই বক্তব্য থেকে সে সময় হত্যাকাণ্ড চলার বিষয়টি সম্পর্কে ইকবালের অবগত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড বন্ধে উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ইমাম হাসান তাইম রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী-সেতুর কাছে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজীনগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। মামলার ১১ আসামির মধ্যে নয়জন পলাতক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা। অন্য দুই আসামি, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং সাবেক উপপরিদর্শক মো. শাহদাত আলী কারাগারে রয়েছেন। সোমবার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ২৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
মতামত