সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

বিদেশি বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো পাড়া


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

বিদেশি বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো পাড়া
বিদেশি বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো পাড়া

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন বৃদ্ধির কারণে বদলে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের আবাসিক পরিবেশ। একের পর এক ভবন কিনে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে রূপান্তর করছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বাড়ছে বাড়িভাড়া, উচ্ছেদের মুখে পড়ছেন পুরোনো বাসিন্দারা, আর হারিয়ে যাচ্ছে এলাকার ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন। এক্সারখিয়া দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী রাজনীতি, প্রতিবাদ আন্দোলন এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির জন্য পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইসরায়েলি ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। তবে এথেন্সে বাড়ির মালিকদের জাতীয়তা নিয়ে সরকারি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই। ১৯৮৬ সাল থেকে এলাকাটিতে বসবাস করছেন স্থপতি টোনিয়া ক্যাটেরিনি। তাঁর ভাষ্য, বিদেশি বিনিয়োগের কারণে পরিচিত পাড়ার চেহারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তিনি ও তাঁর প্রতিবেশীরা সরকারি নথির ভিত্তিতে বিদেশিদের কেনা সম্পত্তির একটি ডিজিটাল মানচিত্রও তৈরি করেছেন। তাঁদের দাবি, নতুন গড়ে ওঠা কোম্পানি পরিচালিত হোটেল ও ভাড়ার আবাসনের উল্লেখযোগ্য অংশ ইসরায়েলি বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন। 

আরও পড়ুন,১৩০ বছর বয়সে হজ করে আলোচনায় আসা নারীর মৃত্যু

এদিকে, দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষিকা ক্রিসুলা পাপাজর্জিওর অভিযোগ, করোনাভাইরাস মহামারির পর পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে। ব্যক্তিগতভাবে ঘর ভাড়া দেওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন কোম্পানি পুরো ভবন কিনে পর্যটকদের জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে। এর ফলে অনেক ভাড়াটিয়াকে এলাকা ছাড়তে হয়েছে। বাসিন্দা কমে যাওয়ায় স্থানীয় স্কুলগুলো শিক্ষার্থী হারিয়েছে, বন্ধ হয়েছে পুরোনো বইয়ের দোকান, ক্যাফে ও মুদি দোকান। বাড়িভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি মেট্রো স্টেশন নির্মাণ ও পর্যটকের সংখ্যা বাড়াও স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, এক্সারখিয়া ধীরে ধীরে আবাসিক এলাকা থেকে পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে। ২০২২ সাল থেকে এলাকাটির স্কয়ারে মেট্রো স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। গ্রিসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির আবাসন খাতে বিদেশি অনাবাসীদের বিনিয়োগ রেকর্ড ২৭৫ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়। আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকার বিদেশি ক্রেতাদের ওপর কর বাড়ানো এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। মধ্য এথেন্সে নতুন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার লাইসেন্স দেওয়ার নিষেধাজ্ঞাও ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের মতে, সরকারি নিয়ম এবং তরুণ গ্রিকদের বাড়ি কেনার আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে বিদেশি ক্রেতাদের অংশগ্রহণ কিছুটা কমেছে। তবে বাড়িভাড়া ও আবাসন সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এক্সারখিয়ার বাসিন্দাদের দাবি, উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বিদেশি বিনিয়োগের চাপে এলাকার পুরোনো বাসিন্দা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও হারিয়ে যেতে পারে।

বিষয় : বিদেশি বিনিয়োগ এথেন্স

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


বিদেশি বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো পাড়া

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন বৃদ্ধির কারণে বদলে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের আবাসিক পরিবেশ। একের পর এক ভবন কিনে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে রূপান্তর করছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বাড়ছে বাড়িভাড়া, উচ্ছেদের মুখে পড়ছেন পুরোনো বাসিন্দারা, আর হারিয়ে যাচ্ছে এলাকার ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন। এক্সারখিয়া দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী রাজনীতি, প্রতিবাদ আন্দোলন এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির জন্য পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইসরায়েলি ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। তবে এথেন্সে বাড়ির মালিকদের জাতীয়তা নিয়ে সরকারি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই। ১৯৮৬ সাল থেকে এলাকাটিতে বসবাস করছেন স্থপতি টোনিয়া ক্যাটেরিনি। তাঁর ভাষ্য, বিদেশি বিনিয়োগের কারণে পরিচিত পাড়ার চেহারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তিনি ও তাঁর প্রতিবেশীরা সরকারি নথির ভিত্তিতে বিদেশিদের কেনা সম্পত্তির একটি ডিজিটাল মানচিত্রও তৈরি করেছেন। তাঁদের দাবি, নতুন গড়ে ওঠা কোম্পানি পরিচালিত হোটেল ও ভাড়ার আবাসনের উল্লেখযোগ্য অংশ ইসরায়েলি বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন। 

আরও পড়ুন,১৩০ বছর বয়সে হজ করে আলোচনায় আসা নারীর মৃত্যু

এদিকে, দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষিকা ক্রিসুলা পাপাজর্জিওর অভিযোগ, করোনাভাইরাস মহামারির পর পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে। ব্যক্তিগতভাবে ঘর ভাড়া দেওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন কোম্পানি পুরো ভবন কিনে পর্যটকদের জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে। এর ফলে অনেক ভাড়াটিয়াকে এলাকা ছাড়তে হয়েছে। বাসিন্দা কমে যাওয়ায় স্থানীয় স্কুলগুলো শিক্ষার্থী হারিয়েছে, বন্ধ হয়েছে পুরোনো বইয়ের দোকান, ক্যাফে ও মুদি দোকান। বাড়িভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি মেট্রো স্টেশন নির্মাণ ও পর্যটকের সংখ্যা বাড়াও স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, এক্সারখিয়া ধীরে ধীরে আবাসিক এলাকা থেকে পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে। ২০২২ সাল থেকে এলাকাটির স্কয়ারে মেট্রো স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। গ্রিসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির আবাসন খাতে বিদেশি অনাবাসীদের বিনিয়োগ রেকর্ড ২৭৫ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়। আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকার বিদেশি ক্রেতাদের ওপর কর বাড়ানো এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। মধ্য এথেন্সে নতুন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার লাইসেন্স দেওয়ার নিষেধাজ্ঞাও ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের মতে, সরকারি নিয়ম এবং তরুণ গ্রিকদের বাড়ি কেনার আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে বিদেশি ক্রেতাদের অংশগ্রহণ কিছুটা কমেছে। তবে বাড়িভাড়া ও আবাসন সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এক্সারখিয়ার বাসিন্দাদের দাবি, উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বিদেশি বিনিয়োগের চাপে এলাকার পুরোনো বাসিন্দা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও হারিয়ে যেতে পারে।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বিদেশি বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো পাড়া
0:00 0:00
1.0x