শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
বিদেশি বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো পাড়া

বিদেশি বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো পাড়া

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন বৃদ্ধির কারণে বদলে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের আবাসিক পরিবেশ। একের পর এক ভবন কিনে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে রূপান্তর করছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বাড়ছে বাড়িভাড়া, উচ্ছেদের মুখে পড়ছেন পুরোনো বাসিন্দারা, আর হারিয়ে যাচ্ছে এলাকার ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন। এক্সারখিয়া দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী রাজনীতি, প্রতিবাদ আন্দোলন এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির জন্য পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইসরায়েলি ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। তবে এথেন্সে বাড়ির মালিকদের জাতীয়তা নিয়ে সরকারি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই। ১৯৮৬ সাল থেকে এলাকাটিতে বসবাস করছেন স্থপতি টোনিয়া ক্যাটেরিনি। তাঁর ভাষ্য, বিদেশি বিনিয়োগের কারণে পরিচিত পাড়ার চেহারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তিনি ও তাঁর প্রতিবেশীরা সরকারি নথির ভিত্তিতে বিদেশিদের কেনা সম্পত্তির একটি ডিজিটাল মানচিত্রও তৈরি করেছেন। তাঁদের দাবি, নতুন গড়ে ওঠা কোম্পানি পরিচালিত হোটেল ও ভাড়ার আবাসনের উল্লেখযোগ্য অংশ ইসরায়েলি বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন। আরও পড়ুন,১৩০ বছর বয়সে হজ করে আলোচনায় আসা নারীর মৃত্যুএদিকে, দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষিকা ক্রিসুলা পাপাজর্জিওর অভিযোগ, করোনাভাইরাস মহামারির পর পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে। ব্যক্তিগতভাবে ঘর ভাড়া দেওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন কোম্পানি পুরো ভবন কিনে পর্যটকদের জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে। এর ফলে অনেক ভাড়াটিয়াকে এলাকা ছাড়তে হয়েছে। বাসিন্দা কমে যাওয়ায় স্থানীয় স্কুলগুলো শিক্ষার্থী হারিয়েছে, বন্ধ হয়েছে পুরোনো বইয়ের দোকান, ক্যাফে ও মুদি দোকান। বাড়িভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি মেট্রো স্টেশন নির্মাণ ও পর্যটকের সংখ্যা বাড়াও স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, এক্সারখিয়া ধীরে ধীরে আবাসিক এলাকা থেকে পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে। ২০২২ সাল থেকে এলাকাটির স্কয়ারে মেট্রো স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। গ্রিসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির আবাসন খাতে বিদেশি অনাবাসীদের বিনিয়োগ রেকর্ড ২৭৫ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়। আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকার বিদেশি ক্রেতাদের ওপর কর বাড়ানো এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। মধ্য এথেন্সে নতুন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার লাইসেন্স দেওয়ার নিষেধাজ্ঞাও ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের মতে, সরকারি নিয়ম এবং তরুণ গ্রিকদের বাড়ি কেনার আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে বিদেশি ক্রেতাদের অংশগ্রহণ কিছুটা কমেছে। তবে বাড়িভাড়া ও আবাসন সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এক্সারখিয়ার বাসিন্দাদের দাবি, উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বিদেশি বিনিয়োগের চাপে এলাকার পুরোনো বাসিন্দা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও হারিয়ে যেতে পারে।

বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলা নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ভ্যান্স

এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ বলার বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্বীকার করেছেন, বক্তব্যের ভাষা হয়তো যথাযথ ছিল না। একই সঙ্গে নিজের ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রোববার ১৮ অক্টোবর ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতিতে এমন ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, যাতে বিদেশি কর্মীদের প্রতি সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি মার্কিন কর্মীদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে। ভ্যান্সের স্ত্রী ঊষা ভ্যান্সের পরিবারের শিকড় দক্ষিণ ভারতে। তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছিলেন। ভ্যান্স বলেন, দক্ষিণ ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িকে তিনি ভালোবাসেন। তাঁদের মেয়ে ঊষা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে দেশটির সেকেন্ড লেডি। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি গর্বিত বলেও জানান। ভ্যান্সের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে অবদান রাখতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের স্বাগত জানানো উচিত। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অজুহাতে কোনো প্রতিষ্ঠান আগে থেকে কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের চাকরিচ্যুত করতে পারে না।আরও পড়ুন,মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয়ে ১৯ বছর পালিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তারতাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিদেশি ও মার্কিন উভয় কর্মীর জন্যই ক্ষতিকর। এই বিতর্কের সূত্রপাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনসংক্রান্ত কঠোর অবস্থান থেকে। চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম বা পিইআরএমের আওতায় আবেদনপ্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। তালিকায় মাইক্রোসফট, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পিইআরএম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের আবেদনে স্পনসর করতে পারেন। বিদেশি পেশাজীবীদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ হিসেবে বর্ণনা করার ঘটনায় এর আগে প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্যটিকে অযৌক্তিক ও গভীরভাবে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করে। ভারতের বক্তব্য, দেশটিতে জন্ম নেওয়া বহু দক্ষ পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও উদ্ভাবন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ভ্যান্সের সর্বশেষ বক্তব্যে ভাষার জন্য দুঃখ প্রকাশের ইঙ্গিত থাকলেও অভিবাসননীতিতে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষার অবস্থান তিনি বজায় রেখেছেন। ফলে এইচ-১বি ভিসা, বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে।

বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলা নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ভ্যান্স

আট মাসেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বাড়ল ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ

সংস্কার উদ্যোগ এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে এই লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছে গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করেছে। বাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক সূচক নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ এর মধ্যে অন্যতম। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানিয়েছেন, বিদেশি লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে কোনো একক উদ্যোগ কাজ করছে না। বাজার উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ, এমএসসিআইসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআইটিএ-সংক্রান্ত বিধি সহজ করা এবং টি প্লাস ওয়ান সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।আরও পড়ুন,রাশিয়া থেকে রওনা ইউরেনিয়ামবাহী বিমান রূপপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্নসম্প্রতি বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য এনআইটিএ ব্যবস্থার একটি জটিলতাও সহজ করা হয়েছে। আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদাভাবে এনআইটিএ হিসাব করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদা হিসাব না করে বাংলাদেশ থেকে অর্থ প্রত্যাবাসনের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব সম্পন্ন করা যাবে। এতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএসইর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিদেশি লেনদেনে ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারিতে লেনদেন ছিল ৩৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। মার্চে কমে ২৭২ কোটি ৩ লাখ এবং এপ্রিলে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকায় নেমে আসে। তবে মে মাসে বিদেশি লেনদেনে বড় উত্থান ঘটে। ওই মাসে লেনদেন হয়েছে ৮৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জুনে ৫৪০ কোটি ১৬ লাখ এবং জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়। আগস্টে কিছুটা কমে তা দাঁড়ায় ৩১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০২৫ সালের পুরো বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৯২০ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ২১ টাকা। ফলে চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

আট মাসেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বাড়ল ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ

চীনা নাগরিক ও বিদেশিদের দেশ ছাড়ায় বাড়ল নিয়ন্ত্রণ

চীন ছাড়ার ওপর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে বেইজিং। দেশটির নতুন একটি ১৯ ধারার বিধিমালা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা, ঝুঁকি কিংবা অপরাধ তদন্তের মতো বিভিন্ন কারণে চীনা নাগরিক ও বিদেশিদের দেশ ছাড়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।চীনে কার্যকর হয়েছে স্টেট কাউন্সিলের ‘রেগুলেশনস অন এক্সিট-এন্ট্রি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’—ডিক্রি নম্বর ৮৪১।১৯ ধারার এই বিধিমালায় জাতীয় নিরাপত্তা ও বিভিন্ন ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে নাগরিক ও বিদেশিদের দেশ ছাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক মায়া ওয়াং বলছেন, নতুন বিধিমালা চীনা কর্তৃপক্ষকে কে দেশ ছাড়তে পারবেন আর কে পারবেন না—সে বিষয়ে আরও বিস্তৃত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।নতুন বিধিমালার দ্বিতীয় ধারায়, প্রয়োজন মনে করলে নাগরিকদের ‘উচ্চঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ বা অঞ্চলে ভ্রমণ থেকে নিরুৎসাহিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে।তবে ‘উচ্চঝুঁকিপূর্ণ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে কিংবা কোন পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—তা স্পষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেছে এইচআরডব্লিউ।অন্যদিকে, বিদেশে কোনো ‘অবৈধ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নাগরিককে চীন ছাড়তে বাধা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে।বিধিমালায় সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞার কারণ, আইনি ভিত্তি এবং প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ লিখিতভাবে জানানোর কথা বলা হয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা অপরাধ তদন্তে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলে এসব তথ্য না জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।বিদেশিদের ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে নিয়ন্ত্রণ। আড়ও পড়ুন,সৌদির রাজধানী রিয়াদে হামলা, দায় স্বীকার হুতিদেরবিভিন্ন চীনা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের দেশ ছাড়তে বাধা দেওয়ার বিধান রয়েছে।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি, গত এক দশকে চীনে দেশ ছাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই কঠোর হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এর প্রভাব পড়ছে উইঘুরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু, মানবাধিকারকর্মী এবং কিছু সরকারি কর্মীর আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ওপরও।জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের দেশসহ যেকোনো দেশ ত্যাগের অধিকার স্বীকৃত। তবে জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য কিংবা অন্যের অধিকার সুরক্ষার মতো বৈধ কারণে আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক বিধিনিষেধের সুযোগ রয়েছে।চীনের নতুন বিধিমালা নিয়ে এখন মূল বিতর্ক—জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যক্তির আন্তর্জাতিক ভ্রমণের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য কোথায়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, বিধিমালার কিছু অস্পষ্ট ভাষা নির্বিচার প্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চীনা নাগরিক ও বিদেশিদের দেশ ছাড়ায় বাড়ল নিয়ন্ত্রণ