শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
আট মাসেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বাড়ল ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ

আট মাসেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বাড়ল ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ

সংস্কার উদ্যোগ এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে এই লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছে গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করেছে। বাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক সূচক নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ এর মধ্যে অন্যতম। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানিয়েছেন, বিদেশি লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে কোনো একক উদ্যোগ কাজ করছে না। বাজার উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ, এমএসসিআইসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআইটিএ-সংক্রান্ত বিধি সহজ করা এবং টি প্লাস ওয়ান সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।আরও পড়ুন,রাশিয়া থেকে রওনা ইউরেনিয়ামবাহী বিমান রূপপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্নসম্প্রতি বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য এনআইটিএ ব্যবস্থার একটি জটিলতাও সহজ করা হয়েছে। আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদাভাবে এনআইটিএ হিসাব করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদা হিসাব না করে বাংলাদেশ থেকে অর্থ প্রত্যাবাসনের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব সম্পন্ন করা যাবে। এতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএসইর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিদেশি লেনদেনে ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারিতে লেনদেন ছিল ৩৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। মার্চে কমে ২৭২ কোটি ৩ লাখ এবং এপ্রিলে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকায় নেমে আসে। তবে মে মাসে বিদেশি লেনদেনে বড় উত্থান ঘটে। ওই মাসে লেনদেন হয়েছে ৮৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জুনে ৫৪০ কোটি ১৬ লাখ এবং জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়। আগস্টে কিছুটা কমে তা দাঁড়ায় ৩১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০২৫ সালের পুরো বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৯২০ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ২১ টাকা। ফলে চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

চীনা নাগরিক ও বিদেশিদের দেশ ছাড়ায় বাড়ল নিয়ন্ত্রণ

চীন ছাড়ার ওপর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে বেইজিং। দেশটির নতুন একটি ১৯ ধারার বিধিমালা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা, ঝুঁকি কিংবা অপরাধ তদন্তের মতো বিভিন্ন কারণে চীনা নাগরিক ও বিদেশিদের দেশ ছাড়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।চীনে কার্যকর হয়েছে স্টেট কাউন্সিলের ‘রেগুলেশনস অন এক্সিট-এন্ট্রি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’—ডিক্রি নম্বর ৮৪১।১৯ ধারার এই বিধিমালায় জাতীয় নিরাপত্তা ও বিভিন্ন ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে নাগরিক ও বিদেশিদের দেশ ছাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক মায়া ওয়াং বলছেন, নতুন বিধিমালা চীনা কর্তৃপক্ষকে কে দেশ ছাড়তে পারবেন আর কে পারবেন না—সে বিষয়ে আরও বিস্তৃত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।নতুন বিধিমালার দ্বিতীয় ধারায়, প্রয়োজন মনে করলে নাগরিকদের ‘উচ্চঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ বা অঞ্চলে ভ্রমণ থেকে নিরুৎসাহিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে।তবে ‘উচ্চঝুঁকিপূর্ণ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে কিংবা কোন পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—তা স্পষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেছে এইচআরডব্লিউ।অন্যদিকে, বিদেশে কোনো ‘অবৈধ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নাগরিককে চীন ছাড়তে বাধা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে।বিধিমালায় সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞার কারণ, আইনি ভিত্তি এবং প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ লিখিতভাবে জানানোর কথা বলা হয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা অপরাধ তদন্তে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলে এসব তথ্য না জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।বিদেশিদের ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে নিয়ন্ত্রণ। আড়ও পড়ুন,সৌদির রাজধানী রিয়াদে হামলা, দায় স্বীকার হুতিদেরবিভিন্ন চীনা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের দেশ ছাড়তে বাধা দেওয়ার বিধান রয়েছে।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি, গত এক দশকে চীনে দেশ ছাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই কঠোর হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এর প্রভাব পড়ছে উইঘুরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু, মানবাধিকারকর্মী এবং কিছু সরকারি কর্মীর আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ওপরও।জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের দেশসহ যেকোনো দেশ ত্যাগের অধিকার স্বীকৃত। তবে জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য কিংবা অন্যের অধিকার সুরক্ষার মতো বৈধ কারণে আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক বিধিনিষেধের সুযোগ রয়েছে।চীনের নতুন বিধিমালা নিয়ে এখন মূল বিতর্ক—জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যক্তির আন্তর্জাতিক ভ্রমণের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য কোথায়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, বিধিমালার কিছু অস্পষ্ট ভাষা নির্বিচার প্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চীনা নাগরিক ও বিদেশিদের দেশ ছাড়ায় বাড়ল নিয়ন্ত্রণ