শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানা

অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানা

উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে অভিবাসনের চেষ্টা করতে গিয়ে গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে চার হাজার ৪১৪ জনের বেশি শিশু মারা গেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। তবে নিখোঁজের ঘটনা এবং বয়স-পরিচয় শনাক্ত করতে না পারার কারণে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অভিবাসন রুটে এসব শিশু মৃত্যুর ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, মরুভূমির তীব্র গরম, পানিশূন্যতা, অনাহার এবং মানব পাচারকারীদের নির্যাতন বিভিন্ন কারণে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হিসেবে উঠে এসেছে ভূমধ্যসাগর। উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দুই হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় মরুভূমির চরম আবহাওয়া ও নদীতে ডুবে অন্তত ৮৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আরও পড়ুন,ভূমিকম্পে কাঁপল খুজদারসহ আশপাশের এলাকাসাহারা মরুভূমি ও হর্ন অব আফ্রিকার দুর্গম পথেও পানিশূন্যতা ও তীব্র গরমে প্রাণ হারাচ্ছে বহু শিশু। আইওএম ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহ কিংবা দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের বয়স ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রকৃত চিত্র নথিভুক্ত পরিসংখ্যানের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মৃত শিশুদের মধ্যে যাদের বয়স শনাক্ত করা গেছে, তাদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুও রয়েছে। তবে বহু ঘটনার ক্ষেত্রে বয়স ও লিঙ্গের তথ্য পাওয়া যায়নি। গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮১ হাজার অভিবাসীর মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে আইওএম। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৮৬২টি ঘটনায় বয়সসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইওএমের মহাপরিচালক বলেছেন, আইনি ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগের অভাব শিশুদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে সংস্থাটির ডেটা ও পলিসি বিভাগের প্রধান স্টুয়ার্ট ক্যাম্পো প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সীমান্তে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

নিরাপদ অভিবাসনে জালিয়াতি বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার

অভিবাসন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করা, জাল নথি ও প্রতারণা বন্ধ এবং অবৈধ সিন্ডিকেটের হাত থেকে বাংলাদেশিদের সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশী বাংলাদেশিরা প্রায়ই অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী ও অবৈধ সিন্ডিকেটের প্রতারণার শিকার হন। এসব চক্র জাল নথি ব্যবহার করে একদিকে নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করছে।অভিবাসন সেবা আরও সুসংহত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক অভিবাসন শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি মোকাবিলায় অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো আরও বেশি বাংলাদেশি যাতে দক্ষ কর্মী হিসেবে বৈধভাবে বিদেশে যেতে পারেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যেন সহজ ও নিরাপদ হয়।এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,কৃষক শক্তিশালী হলে দেশ শক্তিশালী হবে কৃষিমন্ত্রী এতে পাসপোর্ট অধিদফতর, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র, প্রবাসীকল্যাণ, বাণিজ্য, আইন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকছেন।সরকারের ‘এক নাগরিক, এক কার্ড’ উদ্যোগের আওতায় পর্যায়ক্রমে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে নাগরিকদের তথ্য যাচাই আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে জাল নথি তৈরি ও ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণার সুযোগও কমে আসবে।তবে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের সঠিক ও যাচাই করা নথিপত্র নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।সরকারের নেওয়া সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল বিদেশযাত্রার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

নিরাপদ অভিবাসনে জালিয়াতি বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার