শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানা


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানা
অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানা

উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে অভিবাসনের চেষ্টা করতে গিয়ে গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে চার হাজার ৪১৪ জনের বেশি শিশু মারা গেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। তবে নিখোঁজের ঘটনা এবং বয়স-পরিচয় শনাক্ত করতে না পারার কারণে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অভিবাসন রুটে এসব শিশু মৃত্যুর ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, মরুভূমির তীব্র গরম, পানিশূন্যতা, অনাহার এবং মানব পাচারকারীদের নির্যাতন বিভিন্ন কারণে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হিসেবে উঠে এসেছে ভূমধ্যসাগর। উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দুই হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় মরুভূমির চরম আবহাওয়া ও নদীতে ডুবে অন্তত ৮৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। 

আরও পড়ুন,ভূমিকম্পে কাঁপল খুজদারসহ আশপাশের এলাকা

সাহারা মরুভূমি ও হর্ন অব আফ্রিকার দুর্গম পথেও পানিশূন্যতা ও তীব্র গরমে প্রাণ হারাচ্ছে বহু শিশু। আইওএম ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহ কিংবা দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের বয়স ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রকৃত চিত্র নথিভুক্ত পরিসংখ্যানের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মৃত শিশুদের মধ্যে যাদের বয়স শনাক্ত করা গেছে, তাদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুও রয়েছে। তবে বহু ঘটনার ক্ষেত্রে বয়স ও লিঙ্গের তথ্য পাওয়া যায়নি। গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮১ হাজার অভিবাসীর মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে আইওএম। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৮৬২টি ঘটনায় বয়সসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইওএমের মহাপরিচালক বলেছেন, আইনি ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগের অভাব শিশুদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে সংস্থাটির ডেটা ও পলিসি বিভাগের প্রধান স্টুয়ার্ট ক্যাম্পো প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সীমান্তে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

বিষয় : মৃত্যু শিশু অভিবাসন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে অভিবাসনের চেষ্টা করতে গিয়ে গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে চার হাজার ৪১৪ জনের বেশি শিশু মারা গেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। তবে নিখোঁজের ঘটনা এবং বয়স-পরিচয় শনাক্ত করতে না পারার কারণে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অভিবাসন রুটে এসব শিশু মৃত্যুর ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, মরুভূমির তীব্র গরম, পানিশূন্যতা, অনাহার এবং মানব পাচারকারীদের নির্যাতন বিভিন্ন কারণে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হিসেবে উঠে এসেছে ভূমধ্যসাগর। উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দুই হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় মরুভূমির চরম আবহাওয়া ও নদীতে ডুবে অন্তত ৮৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। 

আরও পড়ুন,ভূমিকম্পে কাঁপল খুজদারসহ আশপাশের এলাকা

সাহারা মরুভূমি ও হর্ন অব আফ্রিকার দুর্গম পথেও পানিশূন্যতা ও তীব্র গরমে প্রাণ হারাচ্ছে বহু শিশু। আইওএম ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহ কিংবা দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের বয়স ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রকৃত চিত্র নথিভুক্ত পরিসংখ্যানের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মৃত শিশুদের মধ্যে যাদের বয়স শনাক্ত করা গেছে, তাদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুও রয়েছে। তবে বহু ঘটনার ক্ষেত্রে বয়স ও লিঙ্গের তথ্য পাওয়া যায়নি। গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮১ হাজার অভিবাসীর মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে আইওএম। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৮৬২টি ঘটনায় বয়সসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইওএমের মহাপরিচালক বলেছেন, আইনি ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগের অভাব শিশুদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে সংস্থাটির ডেটা ও পলিসি বিভাগের প্রধান স্টুয়ার্ট ক্যাম্পো প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সীমান্তে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানা
0:00 0:00
1.0x