শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
স্বপ্নের ফ্ল্যাট কেনার আগে আইনি ও আর্থিক সতর্কতা

স্বপ্নের ফ্ল্যাট কেনার আগে আইনি ও আর্থিক সতর্কতা

জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনা অনেকেরই স্বপ্ন। তবে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন কিংবা ভবনের বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতা, নির্মাণগত ত্রুটি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই ফ্ল্যাট কেনার আগে জমির মালিকানা, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা, ভবনের নিরাপত্তা এবং মোট ব্যয়ের হিসাবসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা জরুরি। প্রথমেই জমির মালিকানা ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে। জমির খতিয়ান, দলিল, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের তথ্য এবং মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জমিটি কোনো ব্যাংকে বন্ধক আছে কি না কিংবা মামলা-মোকদ্দমা চলছে কি না, তা অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে পরীক্ষা করা উচিত। প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও নিশ্চিত করতে হবে। আরোও পড়ুন,১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরাএরপর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, পূর্ববর্তী প্রকল্পের নির্মাণমান এবং নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের রেকর্ড যাচাই করা দরকার। প্রয়োজনে আগে ফ্ল্যাট কিনেছেন এমন গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যেতে পারে। ফ্ল্যাটের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। কাছাকাছি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও গণপরিবহনের সুবিধা রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। পাশাপাশি বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, এলাকার নিরাপত্তা এবং পরিবেশ বসবাসের উপযোগী কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া জরুরি। ভবনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, লিফট, জরুরি সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং ভূমিকম্পসহনশীল নির্মাণের বিষয়গুলো যাচাই করতে হবে। ভবনটি প্রযোজ্য জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্মিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, ফ্ল্যাটের মূল দামের বাইরেও রেজিস্ট্রেশন ফি, কর, ভ্যাট, পার্কিং, ইউটিলিটি সংযোগ এবং সার্ভিস চার্জের মতো অতিরিক্ত ব্যয় থাকতে পারে। তাই চুক্তির আগেই সব খরচের লিখিত হিসাব নেওয়া উচিত। ব্যাংকঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ঋণের শর্ত ও প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতাও যাচাই করতে হবে। সব মিলিয়ে, ফ্ল্যাট কেনার আগে আবেগের পরিবর্তে তথ্য, আইনি নথি ও নির্মাণমানকে গুরুত্ব দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ একটি বড় বিনিয়োগকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সহায়তা করতে পারে।

আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দুর্নীতি ও ঘুষের সংশ্লিষ্টতা বেশি

বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ড শনাক্তের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউর কাছে সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের ৩০ হাজার ১৯৯টি রিপোর্ট জমা পড়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি। অর্থাৎ এক বছরে রিপোর্টের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। বিএফআইইউর কাছে জমা পড়া রিপোর্টের মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড প্রতিবেদন। তবে রিপোর্টের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে সরাসরি অর্থপাচার বা আর্থিক অপরাধ ৭৪ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রক নজরদারি ও নিয়ম মেনে চলার চাপ বৃদ্ধি, লেনদেন পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্তে সচেতনতা বাড়ার কারণে রিপোর্টের সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি, বৈদেশিক মুদ্রা এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো নতুন ঝুঁকিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানেও রিপোর্ট বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট। ২০২০-২১ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের রিপোর্ট ছিল পাঁচ হাজার ২৮০টি। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে আট হাজার ৫৭১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪ হাজার ১০৬টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৩৪৫টিতে দাঁড়ায়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৯টি। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে রিপোর্টের সংখ্যা প্রায় ছয় গুণ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রিপোর্ট বৃদ্ধি আর্থিক অপরাধের সম্ভাব্য ঝুঁকির পাশাপাশি নজরদারি ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে রিপোর্টের সংখ্যা ছাড়াও তদন্তের ফলাফল, অপরাধের ধরন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন,বিশ্ব ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য শক্তি জোগায় সুরক্ষা দেয় প্রোটিন বিএফআইইউর পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ব্যাংক খাত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৯৯১টি। এক বছরে ব্যাংক খাতের রিপোর্ট বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। মোট রিপোর্টের মধ্যে ব্যাংকের অংশ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৯১ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশে। এতে একদিকে ব্যাংকগুলোর লেনদেন পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিং কার্যক্রম বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যায়, অন্যদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলে সন্দেহজনক অর্থপ্রবাহের ঝুঁকিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএফআইইউ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে ১৯৯টি আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি প্রতিবেদনে দুর্নীতি ও ঘুষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। প্রতারণা ও জালিয়াতিসংক্রান্ত প্রতিবেদন ছিল ৪৬টি, করসংক্রান্ত অপরাধের ২৭টি এবং মুদ্রা চোরাচালানসংক্রান্ত ১১টি। এই পরিসংখ্যানে দুর্নীতি ও ঘুষের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে। দুর্নীতির অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবেশ করে সম্পদ কেনা, ব্যবসা কিংবা বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈধ অর্থের সঙ্গে মিশে গেলে এর প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সরকারি ব্যয়, বিনিয়োগ পরিবেশ, কর আদায় এবং আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দুর্নীতি ও ঘুষের সংশ্লিষ্টতা বেশি

কৃষকের হাতে স্মার্টফোন, ব্যাংকিংয়ে বাড়বে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি

চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যেই স্মার্টফোন পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সাশ্রয়ী স্মার্টফোন ও শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল ও আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।স্মার্টফোনের দাম নামছে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। আর এর সঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পিপিআরসি আয়োজিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ২.০’ শীর্ষক গ্রুপ ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি একে অপরের পরিপূরক। ডিজিটাল অর্থনীতির গতি বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট অপরিহার্য। শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো ছাড়া ডিজিটাল আর্থিক সেবার সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব নয়।আমির খসরু বলেন, দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু হয়েছে। চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যেই এসব ফোন পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি। আড়ও পড়ুন,ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, বড় সমস্যা আস্থার সংকটতাঁর মতে, এতে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আরও সহজ হবে।স্মার্টফোনের মাধ্যমে কৃষকরা আবহাওয়ার তথ্য, প্রয়োজনীয় সারের মাত্রা এবং কৃষিপণ্যের বাজারদর জানতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।এদিকে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক উৎপাদক ও কারিগরদের চিহ্নিত করে তাঁদের ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড এবং ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়ার উদ্যোগকেও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তবে প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ও নীতিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে উদ্ভাবনের ধারাকে এগিয়ে নিতে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।সাশ্রয়ী স্মার্টফোন, শক্তিশালী ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাই উঠে এসেছে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে।

কৃষকের হাতে স্মার্টফোন, ব্যাংকিংয়ে বাড়বে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি