জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনা অনেকেরই স্বপ্ন। তবে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন কিংবা ভবনের বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতা, নির্মাণগত ত্রুটি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই ফ্ল্যাট কেনার আগে জমির মালিকানা, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা, ভবনের নিরাপত্তা এবং মোট ব্যয়ের হিসাবসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা জরুরি। প্রথমেই জমির মালিকানা ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে। জমির খতিয়ান, দলিল, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের তথ্য এবং মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জমিটি কোনো ব্যাংকে বন্ধক আছে কি না কিংবা মামলা-মোকদ্দমা চলছে কি না, তা অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে পরীক্ষা করা উচিত। প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও নিশ্চিত করতে হবে।
আরোও পড়ুন,১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরা
এরপর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, পূর্ববর্তী প্রকল্পের নির্মাণমান এবং নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের রেকর্ড যাচাই করা দরকার। প্রয়োজনে আগে ফ্ল্যাট কিনেছেন এমন গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যেতে পারে। ফ্ল্যাটের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। কাছাকাছি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও গণপরিবহনের সুবিধা রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। পাশাপাশি বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, এলাকার নিরাপত্তা এবং পরিবেশ বসবাসের উপযোগী কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া জরুরি। ভবনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, লিফট, জরুরি সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং ভূমিকম্পসহনশীল নির্মাণের বিষয়গুলো যাচাই করতে হবে। ভবনটি প্রযোজ্য জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্মিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, ফ্ল্যাটের মূল দামের বাইরেও রেজিস্ট্রেশন ফি, কর, ভ্যাট, পার্কিং, ইউটিলিটি সংযোগ এবং সার্ভিস চার্জের মতো অতিরিক্ত ব্যয় থাকতে পারে। তাই চুক্তির আগেই সব খরচের লিখিত হিসাব নেওয়া উচিত। ব্যাংকঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ঋণের শর্ত ও প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতাও যাচাই করতে হবে। সব মিলিয়ে, ফ্ল্যাট কেনার আগে আবেগের পরিবর্তে তথ্য, আইনি নথি ও নির্মাণমানকে গুরুত্ব দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ একটি বড় বিনিয়োগকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সহায়তা করতে পারে।
মতামত