রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ইশরাকের অস্ত্র হাতে নামার কারণ রাষ্ট্রের ব্যর্থতা

ইশরাকের অস্ত্র হাতে নামার কারণ রাষ্ট্রের ব্যর্থতা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতির কারণেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ইশরাক হোসেনকে অস্ত্র হাতে মাঠে নামতে হয়েছে। সোমবার ১৯ অক্টোবর সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাদক, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ইশরাক হোসেনের ঘটনাতেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আখতার হোসেনের অভিযোগ, মাদক নির্মূলে নিয়োজিত সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। আরও পড়ুন,প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ইশরাকস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশ করলেও তা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, শুধু ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, এমন কোনো উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, পরিস্থিতির প্রকৃত উন্নয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত করতে হবে, যাতে অবৈধ মাদক দেশে প্রবেশ করতে না পারে। ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পেছনের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, পদত্যাগের বিষয়টি শুধু অস্ত্র হাতে নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, নাকি এর পেছনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, লোকদেখানো পদক্ষেপ কিংবা একজন ব্যক্তির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো। সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন জানান, তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে ঢাকা-৬ আসনসহ আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর এই প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান ইশরাক। মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইশরাক বলেন, অভিযানের সময় তাঁর দ্বারা কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। তবে তিনি দাবি করেন, সেদিন তিনি কোনো ভুল করেননি। নিজের নিরাপত্তার জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন ছিল, ততক্ষণই অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলেন বলে জানান তিনি। আরও পড়ুন,মক্কা-মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় ঢাকায় সেমিনারএর আগে সোমবার সকাল সাড়ে আটটার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান ইশরাক। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, এবার একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আরও বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার এবং বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর কথাও জানান তিনি। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এরপর রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাকের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী জড়ো হন। তাঁরা তাঁর পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। নেতা-কর্মীদের ঘিরে রেখেই প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় সংবাদ সম্মেলনস্থলে যান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে ইশরাক এখন মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ইশরাক

ইশরাকের পিস্তল উঁচানোর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পিস্তল উঁচিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ তুলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তাঁর দাবি, গেন্ডারিয়া এলাকায় প্রতিমন্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ড ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয়। রোববার ১৮ অক্টোবর দেওয়া এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি জুবায়ের। বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সরকারের স্বল্প সময়ের মধ্যে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জুবায়েরের দাবি, এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পিস্তল উঁচিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, তা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।আরও পড়ুন,সরকারকে নয় ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, দেশের প্রচলিত অস্ত্র আইন অনুযায়ী নিজের নিরাপত্তা ছাড়া বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং তাঁর দেহরক্ষীদের আগ্রাসী ভূমিকা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ইশরাক হোসেন নিজের কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করে জনমনে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দায়িত্বশীল ব্যক্তির আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা সন্ত্রাসীদের আরও উৎসাহিত করতে পারে। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় করা, আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মাদক নির্মূলসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্জিত ও জনবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণেরও আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।

ইশরাকের পিস্তল উঁচানোর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা