শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ইয়েমেনে সংঘাতের উত্তাপ ছড়াচ্ছে সৌদি আরবেও

ইয়েমেনে সংঘাতের উত্তাপ ছড়াচ্ছে সৌদি আরবেও

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একটি স্কুল ও একটি চিকিৎসা ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্সের বরাতে আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ডাংশ বিভিন্ন অবকাঠামোর ওপর পড়ায় বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পাওয়ার পর জরুরি সাড়াদানকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনে বৈধ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত সামরিক জোট জানায়, রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং খামিস মুশায়িতের দিকে পাঠানো আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করা হয়েছে। আরও পড়ুন,মাইক্রোসফট টাটাসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞাএর আগে বুধবার রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এসব ঘটনার ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে সরকারপন্থী বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালীর কাছাকাছি এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে স্কুল ও চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে সর্বশেষ ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ঘোষণা

ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সব এলাকা পুনরুদ্ধারে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব-সমর্থিত দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি রোববার এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, দেশের বাকি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং পুরো দেশে রাষ্ট্র ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই এ অভিযানের লক্ষ্য।সরকারের এ ঘোষণার মধ্যেই ইয়েমেনে আরও অগ্রগতি অর্জন করেছে ইরানপন্থী হুতিরা। নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তারা। ওই পথটি তাইজ শহরের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল।তাইজ শহর ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দিন ধরে তীব্র লড়াই চলছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশ ও এর আশপাশে গত ২৪ ঘণ্টার সংঘর্ষে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয় একটি পুলিশ সূত্রের দাবি, হুতিরা আল-সাফিয়া এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান সড়ক ও একটি থানাও দখলে নিয়েছে। সেখানে এখনো তীব্র লড়াই চলছে।আরও পড়ুন,ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলা ও ফ্লাভিওর লড়াইসাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের আকস্মিক অভিযানে লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের কিছু এলাকা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে।সৌদি আরব ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে এর পরও হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। এরই মধ্যে হুতিরা সৌদি আরবকেও একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি রোববার দাবি করেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে রিয়াদের উপকণ্ঠ ও কুরাইশ এলাকায় সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে। এতে ওই অবকাঠামোয় আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেন তিনি। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে ৫০টি হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এমন সময়ে বাড়ছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পড়েছে। ফলে হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের নতুন সামরিক অভিযান দেশটির দীর্ঘদিনের সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ঘোষণা

ইয়েমেনে সৌদি বাহিনী ও হুথিদের সংঘাত তীব্র

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে। হুথিদের দাবি তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় সৌদি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার হুথিরা জানিয়েছিল গত এক সপ্তাহে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি হামলার সংখ্যা ৩০০-তে পৌঁছেছে।অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার দাবি করেছে তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলায় শুক্রবারের সংঘর্ষে তাদের বাহিনীর হাতে ৩০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে সরকার। চলতি সপ্তাহে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোর মধ্যে আল-ওয়াজিয়াহ অন্যতম।সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি রাজধানী সানাতেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবারের ওই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে।বিক্ষোভকারীরা ইরান-সমর্থিত হুথিদের প্রতি সমর্থন জানান। একই সঙ্গে তারা সৌদি আরবের বিরোধিতায় বিভিন্ন স্লোগান দেন।আড়ও পড়ুন,গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে সমঝোতা ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি ইয়েমেনের রাজধানীতেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে সৌদি আরব ও হুথিদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন করে তাইজসহ কয়েকটি এলাকায় লড়াই ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে।তবে হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি হামলার যে সংখ্যা এবং ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে হতাহতের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি। স্বাধীনভাবে এসব সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইয়েমেনে সৌদি বাহিনী ও হুথিদের সংঘাত তীব্র